শুক্রবারই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে চলতি ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, দ্রুততা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানিয়ে চিঠি দিয়েছে তৃণমূল।

শশী পাঁজা (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 28 March 2026 11:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নাম শশী পাঁজার (Sashi Panja)। এসআইআরের (SIR) শুনানিতে ডাক পেয়েছিলেন তিনি, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় (SIR Final List) নাম ছিল না, তৃণমূলের এই মন্ত্রী ছিলেন 'বিচারাধীন', নাম দেখা যায়নি প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্টেও (second supplementary list)। ফলে মনোনয়নের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। অবশেষে সেইসব জট থেকে মুক্ত হলেন তিনি। ফলে ভোটের মনোনয়ন পেশ করা নিয়েও আর কোনও সমস্যা রইল না শ্যামপুকুরের তৃণমূল প্রার্থীর। দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নাম রয়েছে বীরভূমের হাসনের তৃণমূল প্রার্থী কাজল শেখেরও।
শুক্রবারই কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতির কাছে চলতি ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, দ্রুততা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানিয়ে চিঠি দিয়েছে তৃণমূল। কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কাছে ওই চিঠি পাঠিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
অভিযোগ, বাস্তবে প্রায় ২৭ লক্ষ মামলার নিষ্পত্তি হয়ে গেলেও তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, ফলে বহু ভোটারের অবস্থান অনিশ্চিত রয়ে গিয়েছে।
চিঠিতে তৃণমূল উল্লেখ করে, বহু রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম এখনও এই সংশোধন প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে। শুধুমাত্র তৃণমূলেরই অন্তত ১১ জন প্রার্থীর নাম বিচারাধীন। ফলে তাঁদের ক্ষেত্রে দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই আদালতের কাছে আবেদন, রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থীদের মামলাগুলি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে এবং প্রয়োজনে আপিলও দ্রুত শুনানি করতে হবে।
গত জানুয়ারি মাসে এসআইআরের শুনানি পর্বে ডাক পেয়েছিলেন শশী পাঁজা (Shashi Panja)। সেইসময়েই বিরক্তি প্রকাশ করে মন্ত্রীর দাবি ছিল, তাঁর নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল এবং এনুমারেশন ফর্মে (Enumeration Form) সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য তিনি দিয়েছেন।
গত জানুয়ারি মাসে এসআইআরের শুনানি পর্বে ডাক পেয়েছিলেন শশী পাঁজা (Shashi Panja)। সেইসময়েই বিরক্তি প্রকাশ করে মন্ত্রীর দাবি ছিল, তাঁর নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল এবং এনুমারেশন ফর্মে (Enumeration Form) সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য তিনি দিয়েছেন।
এসআইআর নিয়ে প্রথম থেকেই সরব রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) থেকে শুরু করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ (Abhishek Banerjee) তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা বরাবর বৈধ ভোটারদের নাম বাদ যাতে না যায় তা নিয়ে আওয়াজ তুলেছেন।
এসআইআর-কে হাতিয়ার করে নির্বাচনী প্রচারের ময়দানে নেমেছে দল। শুক্রবার অন্ডালে যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে মমতা একযোগে নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, ''সব নাম বাদ দিয়েছে। এখনও লিস্ট বের করেনি। প্রথম অতিরিক্ত তালিকা আমরা এখনও হাতে পাইনি। এটা গণতন্ত্রের হত্যা, গণতন্ত্রের জন্য দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা।''
এসআইআর (SIR) প্রসঙ্গে মমতার আরও বলেন, ''৫০ শতাংশের বেশি নাম দেখে দেখে বাদ দেওয়া হয়েছে। একদিন মানুষ এর কৈফিয়ত চাইবে। বুকের পাটা থাকলে আগে লিস্ট বের করুক। মানুষকে জানতে দিক কার নাম আছে, কার নেই।'' মমতার কটাক্ষ, এইভাবে চলতে থাকলে এরা 'হিটলারের শাসনকেও ছাড়িয়ে যাবে'।
শুক্রবার রাতে দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা (second supplementary list) প্রকাশ হয়েছে। https://voters.eci.gov.in/download-eroll?stateCode=S25 -এই লিঙ্কে ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে নাম আছে কিনা দেখতে পাবেন ভোটাররা।