২২ বছরের ইনফ্লুয়েন্সার শর্মিষ্ঠা পানোলির বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ। তাঁর বাবা বললেন, মেয়েকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

শর্মিষ্ঠা পানোলি
শেষ আপডেট: 5 June 2025 13:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্মীয় ভাবাবাগে আঘাত দেওয়ায় অভিযুক্ত শর্মিষ্ঠা পানোলিকে (Sharmistha Panoli) নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, সেই আগুনে আরও ঘি ঢাললেন তাঁর বাবা। সংবাদমাধ্যমে শর্মিষ্ঠার বাবা বলেন, শুধু মেয়েকে ভয় দেখানো নয়, বরং তাঁর বিরুদ্ধে অনলাইনে প্রচার চালানো হয়েছে।
২২ বছর বয়সি ইনফ্লুয়েন্সার শর্মিষ্ঠা পানোলিকে সম্প্রতি কলকাতা পুলিশ গ্রেফতার (Kolkata Police Arrest) করেছে 'অপারেশন সিঁদুর' (Operation Sindoor) নিয়ে তাঁর একটি মন্তব্যের জেরে। অভিযোগ, শর্মিষ্ঠার মন্তব্য ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। এদিকে তাঁর বাবা পৃথ্বী পানোলির দাবি, গ্রেফতারের আগে থেকেই তাঁর মেয়েকে খুন, ধর্ষণ এমনকী শিরচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। শুধু তাই নয় অ্যাসিড হামলা এবং পুড়িয়ে মারার মতো ভয়ঙ্কর হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
পৃথ্বীর বক্তব্য, “এটি কেবল ভয় দেখানোর ঘটনা নয়, মেয়ের বিরুদ্ধে অনলাইন প্রচার চালানো হচ্ছে। আমাদের পরিবারের যাবতীয় তথ্যও প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।” তিনি এও বলেন, হুমকির মাত্রা এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল যে তাঁরা বাধ্য হন ফোন বন্ধ করে দিতে এবং সিম কার্ড খুলে ফেলতে।
বিতর্কিত মন্তব্য ও গ্রেফতার
ঘটনার সূত্রপাত ১৪ মে। একটি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওকে ঘিরে, যেখানে শর্মিষ্ঠা 'অপারেশন সিঁদুর'-এর পক্ষে কথা বলেন। তবে শর্মিষ্ঠা যে সব ভাষা ব্যবহার করেছিলেন, তা আপত্তিকর ও ধর্মীয়ভাবে স্পর্শকাতর বলে অভিযোগ ওঠে। ভিডিওটি পরে ডিলিট করা হয়। কিন্তু ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং ৩১ মে গুরুগ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ।
রাজনৈতিক রূপ
বিজেপি এই গ্রেফতারির বিরোধিতা করে একে ‘অবৈধ’ বলে দাবি করে। তারা অভিযোগ করে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ভোটব্যাঙ্ককে তুষ্ট করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে কলকাতা পুলিশ জানায়, তারা সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে এবং অভিযুক্তকে একাধিকবার নোটিশ পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি পলাতক ছিলেন।
পৃথ্বী পানোলি পুলিশের এই দাবিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “১৫ মে থেকেই আমি কলকাতা পুলিশের সাইবার ইউনিট এবং স্থানীয় থানার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলাম। আমরা যে হুমকি পাচ্ছিলাম, তা নিয়েও তাদের নিয়মিত জানাচ্ছিলাম।” তিনি আরও জানান, “২৯ মে পর্যন্ত কোনো এফআইআর পাইনি। দরজায় কোনও নোটিস লাগানো হয়নি। মেলেও কিছু আসেনি। তাহলে কীভাবে তারা বলছে আমরা পলাতক?”
পরিবারের নিরাপত্তাহীনতা ও শহর ছাড়ার সিদ্ধান্ত
১৯ মে এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে পৃথ্বী বলেন, “আমি দেখি কয়েকজন লোক আমাদের ফ্ল্যাটের দিকে তাকিয়ে আছে। ভয় পেয়ে আমি পরিবার নিয়ে দিল্লি চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।” অভিযোগ, তাঁদের অ্যাপার্টমেন্ট, টাওয়ার, কলেজ এবং কাজের জায়গার ঠিকানা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।