পুলিশের অভিযোগ, জশবীর চ্যানেলের সুবাদে পাক চর সংস্থার লোকজনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ইউটিউবার জশবীর সিং ও জ্যোতি মালহোত্রা।
শেষ আপডেট: 4 June 2025 12:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানি গুপ্তচর সন্দেহে পাঞ্জাব পুলিশের হাতে ফের গ্রেফতার আরও এক ইউটিউবার জশবীর সিং। ‘জন মহল’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল চালান তিনি। যে চ্যানেলের প্রায় ১১ লক্ষ সাবস্ক্রাইবার রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযোগ, জশবীর চ্যানেলের সুবাদে পাক চর সংস্থার লোকজনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
রূপনগর জেলার মাহলান গ্রামের বাসিন্দা জশবীরকে রাজ্যের বিশেষ অপারেশনস সেল প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতি বুধবার সকালে গ্রেফতার করে। ইউটিউবার তথা ট্রাভেল ভ্লগার হরিয়ানার বাসিন্দা জ্যোতি মালহোত্রাকে গ্রেফতারের পর জশবীর হলেন দ্বিতীয় সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেলের জনপ্রিয় ব্যক্তি, যাঁকে পাক চরবৃত্তির সন্দেহে গ্রেফতার করল পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, পাকিস্তানি এজেন্ট ঘনিষ্ঠ জ্যোতি মালহোত্রার সঙ্গে জশবীরের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। পাঞ্জাব পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, জশবীর এবং পাকিস্তানি চর সংস্থার অফিসার শাকির ওরফে জাট রণধাওয়ার খুবই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। জাট রণধাওয়া হল ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইএসআই চর।
এছাড়াও জশবীর দিল্লিস্থিত পাকিস্তান হাই কমিশনের প্রাক্তন আধিকারিক ও পাক নাগরিক এহসান-উর-রহিম ওরফে দানিশের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রেখে চলতেন। উল্লেখ্য, দানিশকে আগেই গুপ্তচর বৃত্তির অভিযোগে ভারত সরকার দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে।
সরকারি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, পাকিস্তান ন্যাশনাল ডে উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন জশবীর। এই অনুষ্ঠানটি হয়েছিল দিল্লির পাকিস্তানি দূতাবাসে। তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল দানিশ। ওই অনুষ্ঠানেই জশবীরের সঙ্গে পাকিস্তানি সেনা কর্মী, আইএসআই এজেন্ট ও ভ্লগারদের পরিচয় করিয়ে দেয় দানিশ। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, জশবীর মোট তিনবার পাকিস্তান গিয়েছেন। প্রথমবার ২০২০ সালে, তার পরের বছর ২০২১ সালে এবং শেষবার গিয়েছিলেন ২০২৪ সালে।
জশবীরের বৈদ্যুতিন সামগ্রী পরীক্ষা করে পুলিশ বেশ কিছু পাকিস্তানি ফোন নম্বর পেয়েছে। যা বর্তমানে আরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, জ্যোতি মালহোত্রার গ্রেফতারির পর জশবীর সেসব নম্বর ডিলিট করার চেষ্টা করেছিল। আইএসআইয়ের সঙ্গে যুক্ত চরদের নম্বর ও সুলুকসন্ধান যাতে না মেলে তার ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তু, তার অনেকগুলিই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
প্রসঙ্গত, পাঞ্জাব পুলিশ এখনও পর্যন্ত পাক চর সন্দেহে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে। ফলকশের মাসিহ, সুরজ মাসিহকে গ্রেফতার করা হয় অমৃতসর থেকে। মালেরকোটলা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল গুজালা নামে ৩১ বছরের এক মহিলা ও ইয়ামিন মহম্মদকে। তারপর সুখপ্রিত সিং ও করণবীর সিংকে পুলিশ গ্রেফতার করে গুরুদাসপুর থেকে।