যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মৃত্যুকে ঘিরে ক্ষোভে ফেটে পড়ল ও স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই)। সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে সংগঠনের নেতারা জানালেন, ঘটনায় এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।

শেষ আপডেট: 16 September 2025 22:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মৃত্যুকে ঘিরে ক্ষোভে ফেটে পড়ল ও স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই)। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে সংগঠনের নেতারা জানালেন, ঘটনায় এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। মৃত ছাত্রীকে কেন্দ্র করে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। তাই এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি বলেই দাবি জানালেন তাঁরা।
এই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এসএফআই রাজ্য নেতা দেবাঞ্জন দে। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, কেন একটি মেয়ে ছাত্রীকে রাতের অন্ধকারে পুকুরপাড় দিয়ে বাথরুমে যেতে হল? তাঁর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ন্যূনতম সুরক্ষা নেই। পুরুষদের জন্য টয়লেট থাকলেও মহিলাদের জন্য নেই সুনির্দিষ্ট ও পরিষ্কার টয়লেটের ব্যবস্থা। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রীরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
দেবাঞ্জন দে আরও বলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় যেমন শিক্ষা ও সংস্কৃতির দিক থেকে একসময় গৌরবের আসন অধিকার করেছিল, আজ পরিকাঠামোর অবনতি, প্রশাসনিক উদাসীনতা এবং রাজনৈতিক চাপের কারণে তার মর্যাদা ধূলিসাৎ হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল ও বিজেপি— এই দুই রাজনৈতিক শক্তির দ্বন্দ্ব ও চাপের জেরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতি থমকে আছে।
তিনি আরও দাবি করেন, কেন্দ্র সরকারের তরফে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে লাগানো হয়নি। কেন্দ্র থেকে টাকা আসে, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সেই অর্থ খরচ হয় না। ফলে পরিকাঠামো ভেঙে পড়ছে, ছাত্রীরা মৌলিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না, অভিযোগ তাঁর।
এছাড়াও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নোংরা পুকুরের প্রসঙ্গও তোলেন। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র-ছাত্রী ও সংগঠনগুলির তরফে অভিযোগ জানানো হলেও কোনও সংস্কার কার্য হয়নি বলে তিনি জানান। যে পুকুর দিয়ে ওই ছাত্রীকে যেতে হয়েছিল, সেটি বছরের পর বছর নোংরা এবং আবর্জনার স্তূপ হয়ে আছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনও উদ্যোগ নেয়নি, বলেন দেবাঞ্জন দে।
এই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত আরেকজন এসএফআই সদস্য জানান, মৃত ছাত্রীর পরিবার এই ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত খুন হিসেবে দাবি করছে। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সত্য উদঘাটনের জন্য সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।
এসএফআই নেতৃত্ব জানিয়েছে, এই ঘটনাকে ঘিরে ছাত্রসমাজ আতঙ্কিত। যাদবপুরের মতো একটি প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি ছাত্রীরা নিরাপদ না হয়, তবে তা রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দেয়। তাই দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি তুলেছে সংগঠন।