
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 16 April 2025 21:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার ভবানী ভবনের (Bhabani Bhawan) সামনে ধর্নায় বসেছিল বিজেপি (BJP)। মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) ঘরছাড়াদের সঙ্গে নিয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারের সঙ্গে সাক্ষাতের দাবি ছিল তাঁদের। দু'ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ধর্না দেওয়ার পর অবশেষে ভবানী ভবনে ঢুকেছেন সুকান্ত মজুমদাররা। মুর্শিদাবাদের ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছেন এমন ১২ জনকে নিয়ে তিনি রাজীব কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেছেন।
গত শুক্রবার থেকে উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদ। জেলায় কার্যত তাণ্ডব চলেছে। ঘর-বাড়ি, দোকান ভাঙচুরের পাশাপাশি খুনের ঘটনাও ঘটেছে। বুধবার ভবানী ভবনে মুর্শিদাবাদের কয়েকজন ঘরছাড়াকে সঙ্গে নিয়ে ভবানী ভবন যান বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সহ বিজেপি একাধিক নেতারা। তাঁদের অভিযোগ ছিল, মুর্শিদাবাদের ঘটনার পর এলাকা পরিদর্শনে গেছিলেন রাজ্যের ডিজিপি। কিন্তু ঘরছাড়া হোক কিংবা আক্রান্তদের পরিবার, কারও সঙ্গেই দেখা করে কথা বলেননি তিনি। তাই আজ ডিজিকে ঘরছাড়াদের সঙ্গে দেখা করে কথা বলতে হবে, তাঁদের অভাব-অভিযোগ শুনতে হবে।
এই দাবি তুলেই ধর্না শুরু করেছিলেন সুকান্তরা। তাঁদের ভবানী ভবনের তরফে জানানো হয়েছিল, ডিজি নেই। তিনি বৈঠকে ব্যস্ত। কিন্তু বিজেপির তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, যতক্ষণ সময় লাগুক, তাঁরা আজ ডিজির সঙ্গে সাক্ষাৎ না করে এই জায়গা থেকে নড়বেন না। অবশেষে প্রায় আড়াই ঘণ্টার ধর্নার পর শেষ হল সেই স্নায়ুযুদ্ধ। মুর্শিদাবাদের আক্রান্তদের নিয়ে ভবানী ভবনের ভিতরে গেলেন সুকান্ত মজুমদাররা।
এদিন ভবানী ভবনের সামনে দাঁড়িয়েই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন সুকান্ত মজুমদার। তাঁর অভিযোগ, মহিলা মুখ্যমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও রাজ্যের মহিলারা নিরাপদ নন। মুর্শিদাবাদে তাঁদের শারীরিকভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা তো হয়েছেই, ভয় দেখানো হয়েছে প্রাণে মেরে ফেলার। শুধু এটুকুই নয়, হিন্দু মহিলাদের সংখ্যালঘুদের তরফে নোংরা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সুকান্তর কথায়, রাজ্য সরকার পুরো বিষয়টি সম্পর্ক অবগত হলেও কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এদিকে পুলিশও নিষ্ক্রিয়। গোটা বিষয় সম্পর্কে তাঁরা ডিজিকে জানাবেন বলে জানিয়েছিলেন।
প্রথমে অবশ্য সুকান্তদের বলা হয়েছিল, ৪ জনের বেশি প্রতিনিধি ভিতরে ঢুকতে পারবেন না। কিন্তু বিজেপির তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, এখানে আসা প্রত্যেক আক্রান্তকে ঢুকতে না দিলে তাঁরা কেউ ভিতরে যাবেন না, ধর্না জারি রাখবেন। শেষমেশ সকলকেই ভিতরে যাওয়ার অনুমতি দেয় পুলিশ।