ভাঙা সিঁড়ি, অপর্যাপ্ত আলো, শৌচাগার ও চেঞ্জিং রুমের অভাব, পানীয় জলের ব্যবস্থা না থাকা এবং অবহেলার কারণে নিরাপত্তাহীন পরিবেশ - সব মিলিয়ে দর্শনার্থীরা বারবার অভিযোগ জানিয়েছেন।

কলকাতার গঙ্গাঘাট
শেষ আপডেট: 17 September 2025 17:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গঙ্গা নদীর তীরবর্তী সাতটি ঐতিহাসিক ঘাটের (Kolkata heritage ganga ghat) রূপ পাল্টাতে চলেছে, তাও খুব তাড়াতাড়ি। শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি পোর্ট (Shyama Prasad Mukherjee Port), কলকাতা পুরসভা (কেএমসি), কলকাতা পুলিশ এবং একাধিক বেসরকারি কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে এই ঘাটগুলিকে পুনরুদ্ধার ও সৌন্দর্যায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পুনরুদ্ধারের জন্য নির্বাচিত ঘাটগুলি হল মায়ের ঘাট, সুরিনাম ঘাট, নিমতলা বিসর্জন ঘাট, ছোটেলাল কি ঘাট, দইঘাট, কুমারটুলি ঘাট এবং চাঁপাতলা ঘাট। কুমারটুলি থেকে চাঁপাতলা ঘাট পর্যন্ত নদীতীরের অংশটিও নতুনভাবে সাজানো হবে।
শনিবার সিনিয়র পোর্ট আধিকারিকদের সঙ্গে কলকাতা পুলিশ এবং কেএমসি প্রতিনিধিদের বৈঠকে প্রকল্পের পরিকল্পনা ও সমন্বয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা।
এক পোর্ট আধিকারিক জানান, “আমাদের লক্ষ্য হল ঘাটগুলিকে এমনভাবে পুনর্জীবিত করা, যাতে ঐতিহ্যের চরিত্র অক্ষুণ্ণ রেখে এগুলি আরও দৃষ্টিনন্দন হয়।”
পোর্ট চেয়ারপার্সন রথেন্দ্র রমন বলেন, “ঘাটগুলি কলকাতার ঐতিহ্য ও দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এই সহযোগিতার মাধ্যমে পুনর্গঠন হবে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, পাশাপাশি নাগরিক ও পর্যটকদের জন্য ব্যবহারযোগ্য।”
কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন সংস্থা এই কাজের দায়িত্ব নিচ্ছে। আদানি পোর্টস অ্যান্ড এসইজেড লিমিটেড কুমারটুলি থেকে চাঁপাতলা পর্যন্ত নদীতীরের সৌন্দর্যায়ন করবে। গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড মায়ের ঘাট ও সুরিনাম ঘাটের উন্নয়নের দায়িত্ব নেবে। পিএস গ্রুপ পুনর্গঠন করবে নিমতলা বিসর্জন ঘাট। আইএইচসিএল গ্রুপ (তাজ হোটেলস) গ্রহণ করেছে ছোটেলাল কি ঘাট, আর টিএনএস লগি পার্ক প্রাইভেট লিমিটেড কাজ করবে দইঘাটে।
পোর্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রত্যেক সংস্থার সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হয়েছে। এক পোর্ট আধিকারিক জানিয়েছেন, “প্রকল্প এখন নকশা তৈরির পর্যায়ে রয়েছে।”
এই ঘাটগুলির অনেকেরই অবস্থা বর্তমানে করুণ। ভাঙা সিঁড়ি, অপর্যাপ্ত আলো, শৌচাগার ও চেঞ্জিং রুমের অভাব, পানীয় জলের ব্যবস্থা না থাকা, সাজসজ্জার উপকরণের ম্লান হয়ে যাওয়া এবং অবহেলার কারণে নিরাপত্তাহীন পরিবেশ - সব মিলিয়ে দর্শনার্থীরা বারবার অভিযোগ জানিয়েছেন।
শনিবারের বৈঠকে কর্পোরেট সংস্থাগুলি তাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা পেশ করেছে, যা সম্পূর্ণভাবে CSR বাজেট থেকেই অর্থায়ন হবে। কেএমসি-র এক আধিকারিক জানান, কলকাতায় বর্তমানে গঙ্গা নদীর তীরে মোট ২৯টি সরকারিভাবে চিহ্নিত ঘাট রয়েছে। এর বাইরে স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যবহৃত আরও ছোট ঘাট আছে, যেগুলি সরকারি তালিকায় নেই।
এক পোর্ট আধিকারিকের কথায়, “এই প্রকল্প সফল হলে আশা করি আরও কর্পোরেশন এগিয়ে এসে অন্য ঘাটগুলিও পুনরুদ্ধারের জন্য এগিয়ে আসবে।”
পোর্ট কর্তৃপক্ষ ঘাটগুলির রক্ষক হলেও নদীর তীর পরিষ্কার রাখা, দুর্গাপুজো ও কালীপুজোর সময় বিসর্জনের ব্যবস্থা এবং ছটপুজোর আয়োজনের দায়িত্ব কেএমসি-র। আইনশৃঙ্খলা ও যান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করে কলকাতা পুলিশ।
বৈঠকের এক উপস্থিত সদস্য জানান, নদীতীরের ভাঙন অনেক ঘাটের অবস্থাকে খারাপ করেছে। তিনি বলেন, “ভাটার সময় যে সিঁড়িগুলি জলের তলায় থাকে, সেগুলিতে বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে। মানুষ সেগুলি ব্যবহার করতে গিয়ে পিছলে পড়তে পারেন, যা গুরুতর দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। পুনর্গঠনের সময় এই বিষয়গুলির দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।”
পোর্ট কর্তৃপক্ষ আরও পরিকল্পনা করছে কুমারটুলি ও চাঁপাতলা ঘাটের মধ্যে একটি হাঁটার পথ (walkway) তৈরি করার।