Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তান

শহরজুড়ে ঐতিহ্য ফেরানোর উদ্যোগ, কলকাতার ৯৪টি পুরনো ভবন আলোকিত হল 'নাগরিকদের' উদ্যোগে

প্রতিটি আলো আসলে সকলে মিলে কলকাতাকে একেকটি উপহার। মানুষ যখন নিজস্ব অর্থে আলোকসজ্জা করে, তখন সেটি হয়ে ওঠে ব্যক্তিগত গর্বের বিষয়। 

শহরজুড়ে ঐতিহ্য ফেরানোর উদ্যোগ, কলকাতার ৯৪টি পুরনো ভবন আলোকিত হল 'নাগরিকদের' উদ্যোগে

ফাইল ছবি

সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: 17 September 2025 14:29

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা শহরের (Kolkata) প্রতি ভালোবাসা আর ঐতিহ্য রক্ষার তাগিদ থেকে শুরু হওয়া 'কলকাতা রেস্টোরার্স' (Kolkata Restorers) নামের এক সংগঠন বহু পুরনো ভবনে নতুন করে আলো (Light) ফিরিয়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে পথচলা শুরু করা এই সংস্থাটি এখন পর্যন্ত শহরের ৯৪টি ঐতিহ্যবাহী ভবনে আলোকসজ্জা (Lighting up 94 Buildings) করেছে। কলকাতা এবং তার পুরনো দিনের স্থাপত্য ভালোবাসেন এমন কিছু মানুষ মিলে এই সংগঠন শুরু করেন। তাঁদের উদ্যোগেই এই সফলতা।

নভেম্বর ২০২৩। সমাজসেবী মুদার পাথেরিয়া ও তাঁর সঙ্গীরা মানিকতলা মার্কেটের (Maniktala Market) গম্বুজে আলো জ্বালিয়ে শুরু করলেন এক অভিনব উদ্যোগ। সরকারি সাহায্যের অপেক্ষা না করে তাঁরা নিলেন ভিন্ন পথ - সবার কাছ থেকে সামান্য সামান্য অর্থ সংগ্রহ (Crowd Funding)। কেউ দিলেন ৫০০ টাকা, কেউ ১০০০। উদ্দেশ্য একটাই, কলকাতার নিজের আলো ফিরিয়ে আনা। তাঁদের এই উদ্যোগে প্রত্যাশার থেকেও বেশি সাড়া মেলে।

প্রবাসী বাঙালি থেকে শুরু করে, প্রাক্তন ছাত্র, ঐতিহ্যপ্রেমী মানুষ - সবাই এগিয়ে এলেন। এক বাজারের আলো জ্বালানো দিয়ে যে যাত্রা শুরু, আজ তা রূপ নিয়েছে শহরের এক বৃহৎ আন্দোলনে। ইতিমধ্যেই আলোকিত হয়েছে মোট ৯৪টি ভবন।

এই উদ্যোগের বিশেষত্ব এর গণতান্ত্রিক রূপে। প্রতিটি আলো আসলে সকলে মিলে কলকাতাকে একেকটি উপহার। মানুষ যখন নিজস্ব অর্থে আলোকসজ্জা করে, তখন সেটি হয়ে ওঠে ব্যক্তিগত গর্বের বিষয়। একটি শিশুর অবদানে হয়তো শুধু একটি বাল্ব জ্বলে ওঠে। কিন্তু সেই শিশুই যখন তার বাবা-মাকে সেই আলো দেখায় তখন তার গর্ব হয়। ফলে এই উদ্যোগ নিয়ে যে আলোকসজ্জা সেটা শুধু আলো নয়, একটা অংশীদারিত্বও বটে।

বর্তমানে রাজভবন, সেন্ট পল’স ক্যাথেড্রাল, এজি বেঙ্গল, জেনারেল পোস্ট অফিস, সেন্ট্রাল টেলিগ্রাফ অফিস, ইস্টার্ন রেলওয়ের কয়লাঘাট বিল্ডিং, নিউ মার্কেট, সেন্ট জন’স চার্চ, রয়্যাল ক্যালকাটা টার্ফ ক্লাবের মতো শহরের বহু ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা রাতের পর আলোয় ঝলমল। প্রত্যেকটির নিজস্ব গল্প থাকলেও সম্মিলিত বার্তা একটাই - ঐতিহ্যের দিক থেকে কলকাতা দাঁড়াতে পারে প্যারিস, ইস্তানবুল বা প্রাগের পাশে।

বিশ্বের নানা শহরে লাইট ফেস্টিভ্যাল সাধারণত সরকারি বা বেসরকারি টাকায় হয়। তবে কলকাতা বেছে নিয়েছে অন্য পথ। নিচুতলা থেকে উঠে আসা, স্বেচ্ছাশ্রম ও নাগরিক মালিকানায় গড়ে উঠেছে উদ্যোগ।

এক টাকার অবদান হোক বা একটি প্রদীপের আলো - সবাই মিলে একই বার্তা দিচ্ছে যে, কলকাতা অন্যের ভরসায় বসে থাকবে না, নিজের ঐতিহ্য নিজেই আলোকিত করতে পারবে।


```