তিন ভিন্ন শিবিরের এই মেলামেশাকে কি কেবল ‘রাজনৈতিক শিষ্টাচার’ হিসেবে দেখা চলে, না কি এর নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে কোনও গভীর ‘রহস্য’? প্রশ্ন শুনে ভরতপুরের বিধায়কের মুখে কেবলই এক চিলতে মুচকি হাসি।

হুমায়ুন কবীর, নওশাদ সিদ্দিকি এবং মহম্মদ সেলিম
শেষ আপডেট: 5 March 2026 18:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে আসন্ন ভোটের মুখে (West Bengal Assembly Election 2026) ভোটার তালিকা নিয়ে নজিরবিহীন ডামাডোল। প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ রেখে তাঁদের নথি খতিয়ে দেখছেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। আর এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যে কোনও ভোট করানো যাবে না— এই দাবিতেই বুধবার রাত থেকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের (CEO) অফিসের সামনে ধর্নায় বসেছে সিপিএম। সেখানে রয়েছেন বামফ্রন্টের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Md Salim) ও মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় (Meenakshi Mukherjee)-সহ অন্যান্য নেতারা।
শুক্রবার সেই ধর্নার পারদ চড়েছে। আর এদিনই রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়ালের কাছে ডেপুটেশন জমা দিতে আসেন নওশাদ সিদ্দিকি। একইভাবে হুমায়ুন কবীরও এদিন সিইওর কাছে সময় চেয়েছিলেন। তিনিও তাঁর দলের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ডেপুটেশন জমা দেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে।
সিইও দফতরের সামনে সেলিম-নওশাদ- হুমায়ুন অলিখিত জোট? প্রশ্ন শুনে মুচকি হাসি ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের। দ্য ওয়ালকে উত্তরে হুমায়ুন বলেন, "সেলিম, হুমায়ুন কবীর এবং নওশাদ ভাইয়েরা যখন এক জায়গায় হবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাতের ঘুম ছুটে যাবে। আগামী দিনে অনেক কিছু দেখা যেতে পারে। এখানে সিইও অফিসের সামনে দেখা যাচ্ছে, আবার দেখা যাবে ডিএম অফিসে যখন মনোনয়ন সাবমিট হবে। এটাই তো রাজনৈতিক শিষ্টাচার। এর জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কপালে ভাঁজ পড়বে। রাতের ঘুম উড়ে যাবে। ট্যাবলেটের বড়ি খেয়ে ঘুমাতে হবে। জোট আমি এখনও চাইব। আমার দরজা খোলা আছে। দখা যাক না! রহস্য লুকিয়ে থাকবেই।"
বামেদের অভিযোগ, ‘ভুয়ো ভোটার’ সরানোর নামে কার্যত বৈধ ভোটারদেরই তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। ধর্নামঞ্চ থেকে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের তোপ, “বৈধ ভোটারদের তালিকায় ফেরাতে হবে। এতদিন কি বিজেপি-তৃণমূল (BJP TMC) বোঝাপড়া করে ভুয়ো ভোটারদের দিয়ে ভোট করিয়েছিল? এখন পরিচ্ছন্ন তালিকার দোহাই দিয়ে প্রান্তিক মানুষের নাম কাটা যাবে কেন?” তাঁর দাবি, কেবল সংখ্যালঘু নয়, এই কোপ পড়েছে মতুয়া, আদিবাসী এবং নিম্নবিত্ত মেহনতি মানুষের ওপর।
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের আক্রমণ আরও শাণিত। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন ‘বিচারাধীন’ শব্দের প্রয়োগ নিয়ে। সেলিমের বক্তব্য, “কয়লা চোর বা অপরাধীরা বিচারাধীন হবে, সাধারণ অসহায় মানুষ কেন ভোটার তালিকায় বিচারাধীন হয়ে থাকবেন? অবিলম্বে এই ৬০ লক্ষ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে।”
অন্যদিকে, সিইও অফিসে ডেপুটেশন জমা দিতে এসে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি বলেন, "একটিও অমীমাংসিত ইস্যু রেখে ভোট ঘোষণা করা যাবে না। 'বিচারাধীন' ভোটারের সংখ্যা ৬০ হোক বা ৭ লক্ষ, সবকিছুর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভোটের দিন ঘোষণা করা যাবে না।"