“ওদের জন্য আমরা বলব, কারণ ওরা বলতে পারে না”- এই বার্তাকে সামনে রেখেই অবলা প্রাণীদের Helpless Animals অধিকার ও মানসিক-শারীরিক কষ্ট নিয়ে এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করল সরস্বতী ভাণ্ডার। ২ ফেব্রুয়ারি, অবনীন্দ্র সভাঘরে অনুষ্ঠিত হয় এই অনুষ্ঠান Animal Rights।

ছবিঃ দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 10 February 2026 19:15
দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ “ওদের জন্য আমরা বলব, কারণ ওরা বলতে পারে না”- এই বার্তাকে সামনে রেখেই অবলা প্রাণীদের Helpless Animals অধিকার ও মানসিক-শারীরিক কষ্ট নিয়ে এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করল সরস্বতী ভাণ্ডার Saraswati Bhandar। ২ ফেব্রুয়ারি, অবনীন্দ্র সভাঘরে অনুষ্ঠিত হয় এই অনুষ্ঠান Animal Rights।
প্রাণীদের প্রতি মানুষের দায়বদ্ধতা ও মানবিকতার প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই ছিল এই আয়োজন। আলোচনায় Awareness Seminar উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবি-সাহিত্যিক ও সাংবাদিক সৈয়দ হাসমত জালাল, শুভায়ু ব্যানার্জি, মহুয়া দত্ত, শ্রী রতন ঝাওয়ার সহ আরও অনেকে, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে পথের পশুপাখিদের নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন এবং অবলা প্রাণীদের ওপর অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।
এই গোটা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সরস্বতী ভাণ্ডারের কর্ণধার ঝর্ণা ভট্টাচার্য্য। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা - “সরস্বতী ভাণ্ডার ভাষা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং যেখানে মনের রক্তক্ষরণ, সেখানেই শব্দের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানায়। আগামী দিনেও তা অব্যাহত থাকবে - তা সে সবলা হোক কিংবা অবলা। মানুষ হয়ে একটু মানবিক হলে ক্ষতি কী?”
আলোচনায় উঠে আসে সাম্প্রতিক এক বিতর্কিত প্রসঙ্গও। কিছুদিন আগেই সুপ্রিম কোর্টের তরফে রাস্তার অবলা প্রাণীদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রাণীপ্রেমী ও সমাজের একাংশ এই নির্দেশকে অমানবিক বলে মনে করছেন। তাঁদের মতে, সমস্যার সমাধান উচ্ছেদ নয়, বরং সহাবস্থান ও সঠিক পুনর্বাসন নীতির মাধ্যমে হওয়া উচিত। এই প্রেক্ষাপটে সরস্বতী ভাণ্ডারের উদ্যোগ যেন আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ প্রশ্নটা কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের নয়, মানবিক বোধেরও।
প্রসঙ্গত, এর আগেও একাধিক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে সরস্বতী ভাণ্ডার। বইমেলায় পোষ্য ‘চিকু’-কে দিয়ে বই প্রকাশ, বেলগাছিয়া পশু হাসপাতালের ভিতরে ‘Pet Friendly Fair’-এর আয়োজন, পথের পশুপাখিদের জন্য ভাইফোঁটা ও ষষ্ঠীর মতো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা, সব মিলিয়ে সংগঠনটি ধারাবাহিকভাবে মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে চলেছে।
আলোচনায় বইমেলার প্রসঙ্গও উঠে আসে। বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, শিক্ষা ও বিদ্যার উৎসব যদি কেবল মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তার প্রকৃত সার্থকতা কতটা? যখন কেউ বইমেলায় ছবি তুলতে ব্যস্ত, তখন হয়তো তার পোষ্য একা ঘরে আতঙ্কে কাঁদছে, আবার শব্দ ও বায়ুদূষণে পথের প্রাণীরাও মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছে। সমাজের সর্বস্তরে যদি বিদ্যার আলো ছড়িয়ে পড়ে, তবেই এমন আয়োজন প্রকৃত অর্থে সার্থক হবে, এমনই মত প্রকাশ করেন উপস্থিত বক্তারা।
বলতেই হয় এই গোটা অনুষ্ঠান সমাজের বুকে এক নজির তৈরি করছে আর এভাবেই অবলা প্রাণীদের নীরব আর্তনাদ যেন আর নীরব না থাকে, মূলত এই প্রত্যয় নিয়েই এগিয়ে চলেছে সরস্বতী ভাণ্ডার।