মাসখানেক আগে তৃণমূলের কোচবিহার-২ ব্লক সভাপতি পদে দায়িত্ব পেয়েছিলেন সজল। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি রবি ঘোষ ও পার্থপ্রতিম রায়ের ঘনিষ্ঠ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 13 November 2025 17:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সল্টলেকের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিলার অপহরণ ও খুনের ঘটনায় বুধবার রাতে বিধাননগর কমিশনারেটের (Bidhannagar Police) গোয়েন্দারা গ্রেফতার করলেন কোচবিহার-২ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি সজল সরকারকে। এ নিয়ে এই ঘটনায় মোট তিনজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ (TMC Leader Arrest)। বৃহস্পতিবার সজলকে বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হবে।
মাসখানেক আগে তৃণমূলের কোচবিহার-২ ব্লক সভাপতি পদে দায়িত্ব পেয়েছিলেন সজল। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি রবি ঘোষ ও পার্থপ্রতিম রায়ের ঘনিষ্ঠ। দায়িত্ব নেওয়ার পরই জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক ও মন্ত্রী উদয়ন গুহ-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পরে তাঁকে শোকজও করা হয়।
অন্যদিকে, মৃত ব্যবসায়ী স্বপন কামিলার পরিবারের দাবি— এই খুনের মূল হোতা কোচবিহার-২ ব্লকের বিডিও প্রশান্ত বর্মন। তাঁদের অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত ওই বিডিওকে না গ্রেফতার করা হয়েছে, না জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এখন প্রশান্ত বর্মনের লকারে নজর দিতে চান গোয়েন্দারা। নিউ টাউনের ডেপুটি কমিশনারের অফিস থেকে অল্প দূরত্বেই বিডিওর বাড়ি। অভিযোগ, সেখানেই রাখা ছিল প্রচুর সোনা, যা তাঁর কেয়ারটেকার অশোক কর সরিয়ে নেন। পরে অশোক স্বীকারও করেন যে ৫০০-৬০০ গ্রাম সোনা তিনি দত্তাবাদের ব্যবসায়ী স্বপন কামিলাকে বিক্রি করেছিলেন।
এই ঘটনার পরেই ২৮ অক্টোবর রাতে নিউ টাউনের বাড়িতে বিডিও তাঁদের দু’জনকে ডেকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। পরে অশোককে ছেড়ে দেওয়া হলেও, স্বপন আর বাড়ি ফেরেননি। পরের দিন তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়।
গোয়েন্দাদের এখন প্রশ্ন, বিডিওর লকারে ঠিক কতটা সোনা ছিল? চুরি যাওয়া সোনা কি বেআইনি উপায়ে অর্জিত? আর কেন চুরির অভিযোগ থানায় না জানিয়ে বিডিও নিজেই তদন্তে নেমেছিলেন? জানা গিয়েছে, প্রতি সপ্তাহেই একবার করে তিনি নিউ টাউনে যেতেন— কী উদ্দেশ্যে, সেটাই এখন তদন্তের অন্যতম দিক।
এদিকে, খুন মামলায় ধৃত বিডিওর গাড়িচালক রাজু ঢালি এবং ঠিকাদার তুফান থাপাকে বুধবার বিধাননগর হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সাংবাদিকদের প্রশ্নে রাজু বলেন, “যারা মার্ডার করেছে তাদের জিজ্ঞেস করুন, আমরা তো গাড়ির চালক। আমাদের ফাঁসানো হচ্ছে।”
অন্যদিকে, কোচবিহারের ঠিকাদারদের একাংশের অভিযোগ, প্রশান্ত বর্মন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁদের কাজের টাকা বকেয়া রাখা হয়েছে— প্রায় ৭ কোটি টাকার। তাঁদের দাবি, এই বিষয়ে ইডি তদন্ত শুরু করা হোক। ঠিকাদার অশোক চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বিডিও সিকিউরিটি মানি আর ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট পর্যন্ত আটকে রেখেছেন।” এই অভিযোগে প্রশান্ত বর্মনের প্রতিক্রিয়া, “আপনারা এইসব নিয়ে থাকুন, আমার অনেক কাজ রয়েছে।”