দিন আটেক আগে যাত্রাগাছির খালপাড় থেকে ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর দেহ উদ্ধার হয়। তারপর থেকেই সন্দেহের তির গিয়েছিল সরকারি গাড়ির দিকেই। পুলিশের হাতে এসেছে যাত্রাগাছির সিসি ক্যামেরার ফুটেজও।

নীল টিশার্ট পরে বিডিও প্রশান্ত বর্মন
শেষ আপডেট: 9 November 2025 14:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিউটাউনের স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের (New Town Murder) ঘটনায় উঠে এল একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, খুনের দিন (Kolkata Crime) ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল মোট ছয়জন। এর মধ্যে দুই অভিযুক্ত ইতিমধ্যেই জেরায় স্বীকার করেছে, তারা ঘটনাস্থলে ছিল। গ্রেফতার (Arrest) হওয়া গাড়িচালক দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দা, বাকি পাঁচজনের বাড়ি উত্তরবঙ্গে, জানিয়েছে পুলিশ (Police)।
অভিযুক্তদের জেরা করে জানা গিয়েছে, ওই দিন স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে প্রথমে বেল্ট ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। হঠাৎ মাথার পেছনে আঘাত লাগতেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন তিনি। এরপর তাঁর নিথর দেহ তুলে নিয়ে যাওয়া হয় একটি নীলবাতি লাগানো গাড়িতে। পুলিশ সূত্রের খবর, দেহটি ফেলা হয় নিউটাউনের যাত্রাগাছি এলাকার এক খালের ধারে।
সূত্রের দাবি, খুনের পরদিন ওই একই নীলবাতি গাড়িতেই অভিযুক্ত রাজু ঢালী বিমানবন্দরে পৌঁছে দেয় জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে। সেই গাড়িই ব্যবহার করা হয়েছিল খুন ও দেহ লোপাটে। ফলে তদন্তের জালে এখন জড়াচ্ছে বিডিওর নামও।
প্রসঙ্গত, দিন আটেক আগে যাত্রাগাছির খালপাড় থেকে ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর দেহ উদ্ধার হয়। তারপর থেকেই সন্দেহের তির গিয়েছিল সরকারি গাড়ির দিকেই। পুলিশের হাতে এসেছে যাত্রাগাছির সিসি ক্যামেরার ফুটেজও। তাতে দেখা গিয়েছে— নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাট থেকে দ্রুত গতিতে একটি গাড়ি বেরিয়ে নতুন ব্রিজ পার হয়ে যাত্রাগাছির খালের দিকে যাচ্ছে। স্পষ্ট দেখা গিয়েছে গাড়িটির নীলবাতি। যা প্রশাসনিক গাড়ি বলেই মনে করছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, সেটি বিডিও প্রশান্ত বর্মনের অফিসিয়াল গাড়ি।
এই ঘটনার পর গাড়িচালক রাজু ঢালী ও তাঁর এক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিডিও প্রশান্ত বর্মনের গ্রেফতারের দাবিতে স্থানীয় থানায় বিক্ষোভ দেখিয়েছে বিজেপি কর্মীরা। তবে বিডিও প্রশান্ত বর্মনের দাবি, “এই ঘটনার সঙ্গে আমার কোনও যোগ নেই। কলকাতায় আমার কোনও বাড়ি নেই, কোনও সোনা চুরি যায়নি।”
এলাকায় 'দাবাং বিডিও' নামে পরিচিত জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মন গতকালই সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেন,"আমার কোনও সোনা চুরি হয়নি। আমার কোনও বাড়ি নেই। আমি ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকেও চিনি না। চোরকেও চিনি না। ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করে দেখা হোক। আমার যে তিনটি বাড়ির কথা বলা হচ্ছে, কাগজপত্র দিয়ে তা দেখানো হোক।"
তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, খুনের মোটিভ কী এবং সরকারি গাড়িটি কীভাবে ব্যবহার করা হল। পুলিশের হাতে থাকা সিসিটিভি ফুটেজই এখন এই রহস্যময় খুনের তদন্তে মূল প্রমাণ হতে পারে।