প্রতারণার ফাঁদ পেতে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩৮০ গ্রাম সোনার অলংকার হাতানোর অভিযোগে গ্রেফতার হল এক যুবককে। এই ঘটনায় আলোড়ন পড়েছে নওদা থানার কিশোরীতলা এলাকায়।

এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩৮০ গ্রাম সোনার অলংকার হাতানোর অভিযোগে গ্রেফতার হল এক যুবক।
শেষ আপডেট: 30 October 2025 14:50
মামিনুল ইসলাম, মুর্শিদাবাদ: প্রতারণার ফাঁদ পেতে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩৮০ গ্রাম সোনার অলংকার হাতানোর অভিযোগে গ্রেফতার হল এক যুবক। এই ঘটনায় আলোড়ন পড়েছে নওদা থানার কিশোরীতলা এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নওদার কিশোরীতলার বাসিন্দা হাবিব শেখ ওরফে বান্টির সঙ্গে নদিয়ার প্রহ্লাদ বিশ্বাস নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর সামাজিক মাধ্য়মে পরিচয় হয়। সেই পরিচয় গাঢ় হতেই নিজেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেয় ওই যুবক। এরপর প্রহ্লাদবাবুকে জানায়, তারও সোনার দোকান রয়েছে। তাঁরা আদানপ্রদান করতে পারেন। এরপরেই সোনা কিনবেন জানিয়ে প্রহ্লাদবাবুকে মুর্শিদাবাদে ডেকে পাঠান।
ওই যুবককে বিশ্বাস করে প্রহ্লাদবাবু ৩৮০ গ্রাম সোনার গয়না নিয়ে নদিয়া থেকে মুর্শিদাবাদে আসেন। প্রহ্লাদবাবুর অভিযোগ, তাঁর বাড়িতে সোনা হস্তান্তরের পর তাঁকে ঘরে বসিয়ে রেখে হাবিব বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে ফিরে এসে জানায়, ওই সোনা নকল। প্রহ্লাদবাবু বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
সঙ্গে সঙ্গে নওদা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন প্রহ্লাদবাবু। অভিযোগের ভিত্তিতে নওদা থানার ওসি কাউসার হোসেন মণ্ডলের নেতৃত্বে পুলিশ তদন্তে নামে। দ্রুত অভিযান চালিয়ে হাবিব শেখ ওরফে বান্টিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের পর তার হেফাজত থেকেই উদ্ধার হয় খোয়া যাওয়া ৩৮০ গ্রাম আসল সোনার অলংকার।
বেলডাঙার এসডিপিও উত্তম গড়াই বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আমাদের টিম তখনই তৎপর হয়। মাত্র সাত-আট ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। চুরি হওয়া সোনার গয়না উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এখন আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পরেই ওই সোনা প্রহ্লাদবাবুর হাতে তুলে দেওয়া হবে।”
এই পুলিশকর্তা জানান, ধৃত হাবিব শেখের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক প্রতারণা ও সোনা চুরির অভিযোগ রয়েছে। দেড় কোটি টাকার সোনা চুরির অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে জেলে ছিল হাবিব শেখ। বেরিয়ে আবার একই কাজকর্ম শুরু করেছে সে। ধৃত হাবিব শেখকে বৃহস্পতিবার বহরমপুর জেলা আদালতে তোলা হয়। ১০ দিনের হেফাজত চেয়ে আদালতে আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কিনা তদন্তকারীরা তা খতিয়ে দেখছেন।