তাঁর কটাক্ষ, “উত্তরবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী গিয়ে বসে আছেন, বিরোধী দলনেতাও ত্রাণ নিয়ে ছুটছেন। অথচ মুর্শিদাবাদে কেউ আসে না! মুর্শিদাবাদের মানুষ যদি সোচ্চার হই, তখন দেখবেন সবাই ছুটবে।”

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 17 October 2025 16:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়েকদিন আগে নিজের খাসতালুকে বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে দলের জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। দলের অন্দরে বিদ্রোহী হিসেবে পরিচিত ভরতপুরের সেই তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) নিশানায় এবার স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী তথা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
আক্রমণ শানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীকেও (Suvendu Adhikari)। বলা ভাল, মুখ্যমন্ত্রী এবং বিরোধী দলনেতাকে একই বন্ধনীতে রেখে হুমায়ুন বলেন, “উত্তরবঙ্গের বন্যায় সবাই ছুটছেন, অথচ তিন মাস ধরে মুর্শিদাবাদের গঙ্গাভাঙনে কেউ নজর দিচ্ছেন না।”
লালগোলার তারানগর এলাকা গত তিন মাস ধরে গঙ্গার ভাঙনে তলিয়ে যাচ্ছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব সাধারণ মানুষ। এমনকি, সম্প্রতি গঙ্গার জলে গিলে গিয়েছে এক কালীমন্দিরও। সেই প্রেক্ষিতেই ক্ষোভ উগরে দেন হুমায়ুন। তাঁর কটাক্ষ, “উত্তরবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী গিয়ে বসে আছেন, বিরোধী দলনেতাও ত্রাণ নিয়ে ছুটছেন। অথচ মুর্শিদাবাদে কেউ আসে না! মুর্শিদাবাদের মানুষ যদি সোচ্চার হই, তখন দেখবেন সবাই ছুটবে।”
অভিযোগের সুরে হুমায়ুন আরও বলেন, “আমরা নিজেরাই নির্বোধ। নিজেদের মধ্যে কামড়া-কামড়ি করি, ল্যাং মারি। তাই কেন্দ্র পার পেয়ে যাচ্ছে। আমাদের কিছু জনপ্রতিনিধিও দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন। মানুষ সময় এলে জবাব দেবে।”
তাঁর এই মন্তব্যে রীতিমতো অস্বস্তিতে দল। যদিও তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী জানান, “হুমায়ুনের হয়তো জানা নেই, রাজ্যসভার সাংসদরা গঙ্গাভাঙন নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছেন। ভূতনী থেকে লালগোলা পর্যন্ত বিষয়টি সংসদে উঠেছে। কেন্দ্রের মন্ত্রকই দায়ী। উনি যা বলেছেন, সেটা দলের বক্তব্য নয়।”
অন্য দিকে, কেন্দ্রীয় শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “ওঁর বক্তব্য নিয়ে বেশি বলার কিছু নেই। ওঁর দলই ঠিক করবে, এমন নেতা তৃণমূলে কেন!”
তৃণমূলের অন্দরেই অবশ্য অনেকেই বলছেন, “এটাই হুমায়ুন!” দলবিরোধী মন্তব্যের জন্য এর আগেও তাঁকে ডেকে সতর্ক করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতায় বৈঠকও হয়েছিল। কিন্তু তাতে কী! ফের প্রমাণ দিলেন, তিনি এখনো আগের মতোই অকপট, বেলাগাম।
মুর্শিদাবাদের গঙ্গাভাঙন যেমন অব্যাহত, তেমনই অব্যাহত হুমায়ুনের ‘ভাঙনহীন’ খোলামেলা ভাষা!