
শেষ আপডেট: 25 January 2024 16:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কখনও মোবাইলে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হওয়া, কখনও বা সিগনাল ভেঙে গাড়ি চালানো। ট্র্যাফিক আইনের তোয়াক্কা না করার এমন উদাহরণ প্রায়শই নজরে আসে। এর ফলে প্রায় প্রতি দিনই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন অনেকে। পথ নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতার প্রসারে ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ কর্মসূচী প্রতিবছরই পালন করে কলকাতা পুলিশ। ২০১৬ সাল থেকে পথ সচেতনতার অবিরাম প্রচার এ প্রসারে কাজও হয়েছে অনেক। কলকাতা পুলিশের পরিশ্রমে পথ দুর্ঘটনার সংখ্যাও অনেক কমেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে কড়া আইন যেমন জরুরি, তেমন জনমানসে সচেতনতাও প্রয়োজন। তারই চেষ্টা চলছে অবিরাম। গত ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে পথ-নিরাপত্তা সপ্তাহ। ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইভ’ কর্মসূচী চলবে ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন অবধি। এর মধ্যেই কলকাতা পুলিশের তরফে নানা অনুষ্ঠান ও সচেতনতামূলক কর্মসূচী চলছে।
গড়িয়া ট্রাফিক গার্ডের ওসি জানাচ্ছেন, ২১ তারিখে কলকাতা পুলিশের তরফে হাফ ম্যারাথনের মধ্যে দিয়ে সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফের কর্মসূচী শুরু হয়েছে। শীতের রবিবাসরীয় সকালে হাফ ম্যারাথনের আয়োজন করেছিল কলকাতা পুলিশ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার নগরপাল বিনীত গোয়েল-সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা। পুলিশের এই সচেতনতার প্রচারে অংশ নেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২১ কিলোমিটার, ১০ কিলোমিটার ও ৫ কিলোমিটার—তিনটি ক্যাটেগরিতে হয় হাফ ম্যারাথন।
২১ তারিখ থেকে প্রতিদিনই দু’বেলা করে সচেতনতামূলক নানা অনুষ্ঠান করা হচ্ছে শহরে। গড়িয়া ট্রাফিক গার্ডের একজন সার্জেন্ট জানিয়েছেন, ২২ তারিখ সোমবার শহরের বাস, অটো, ট্যাক্সি চালকদের বিনামূল্যে ‘আই চেকআপ’-এর ব্যবস্থা করা হয়। ক্যাম্প করে চালকদের চোখের পরীক্ষা করা হয়। বিকেলে তাঁদের সঙ্গেই পথ সচেতনতা নিয়ে আলোচনা করেন পুলিশ কর্তারা। সবাই নির্দিষ্ট গতিবেগ মেনে গাড়ি চালাচ্ছে কি না , দুর্ঘটনা এড়াতে কী করা উচিত, কীভাবে সচেতন থাকতে হবে চালকদেরও—এইসব ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়া হয় পুলিশের তরফে।
২৩ তারিখে বাচ্চাদের নিয়ে বসে আঁকো প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ‘ট্রেজার অব ইনোসেন্স’ নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আছে। তাদেরই উদ্যোগে পথশিশুদের নিয়ে শ্রীরামপুর ক্লাবে বসে আঁকো প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বাচ্চাদের পুরস্কারও দেওয়া হয়। বিকেলে এই এনজিও-র উদ্যোগেই পাটুলি ক্রসিংয়ের কাছে বাচ্চাদের নিয়ে পথনাটিকার আয়োজন করা হয়।
২৪ তারিখেও পাটুলির কাছে ফ্রি আই চেকআপ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছিল। বিকেলে ‘ওম্যান এমপাওয়ারমেন্ট’ নামে একটি এনজিও-র উদ্যোগে ২৫ থেকে ৩০ জন মহিলাকে নিয়ে বাইক র্যালির আয়োজন করা হয়েছিল। পথ নিরাপত্তার প্রচারেই এই র্যালি করেন মহিলারা। আজ সকালে বাঘাযতীন বয়েজ ও গার্ল স্কুলের পড়ুয়াদের বাবা বা মা যাঁরা স্কুটি চালান, তাঁদের হেলমেট বিতরণ করা হয়েছে। ট্র্যাকস নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে ৭৫ জনকে হেলমেট দেওয়া হয়েছে। ২৬ তারিখ প্রজাতন্ত্র দিবসের দিনে এনসিসির ছেলেদের নিয়ে কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়েছে। অ্যান্ড্রুজ কলেজ থেকে গড়িয়া মোড় অবধি হবে পদযাত্রা।
পুলিশকর্তাদের বক্তব্য, শহরের নাগরিকেরা এখনও অনেকেই পথ-নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন নন। সচেতনতা বাড়লে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর হার আরও কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন তাঁরা। তাই এই অনুষ্ঠানগুলো নিছকই কোনও অনুষ্ঠান নয়, এর পিছনে পথ নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতার বার্তাও দিচ্ছে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ। কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামো এখন অনেকটাই উন্নত। পথবিধি ভঙ্গের আইনও যথেষ্টই কড়া। গড়িয়া ট্রাফিক গার্ডের তরফে জানানো হয়েছে, পথ-নিরাপত্তা সপ্তাহে তাঁদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ রাস্তায় বেপরোয়া হাঁটাচলা (জে ওয়াকিং) বন্ধ করা। তাই সব রকম ভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। গাড়ি চালকদের সঙ্গে আলোচনার সময় তাঁদের বোঝানো হবে কোথায় গাড়ির গতি মন্থর করতে হবে, কোথায় ‘ওভারটেক’ করা যাবে এবং কোথায় তা করা যাবে না, রাস্তার ট্র্যাফিক বিভাজন কোথায় কেমন, রাস্তা কোন দিকে ঘুরছে, কোথায় রাস্তা সরু বা সঙ্কীর্ণ, কোথায় আছে সেতু-কালভার্ট— নিরাপদে গাড়ি চালানোর জন্য প্রতিটি রাস্তায় এই সব বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে। বাইক র্যালির মাধ্যমে বোঝানো হবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনায় হতাহতের কারণ মাথায় হেলমেট না থাকা। পথদুর্ঘটনা রুখতে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ বা ‘সামলে চালাও প্রাণ বাঁচাও’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ বার তা জনসাধারণের বোধগম্য করে তাদের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে কলকাতা পুলিশ।