
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 14 January 2025 12:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেদিনীপুরের হাসপাতালে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইন। মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন ব্যবহারের ফলেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় সিআইডি তদন্তের নির্দেশও দিয়েছে রাজ্য সরকার। তবে এই রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইন নিয়ে প্রশ্ন শুধু এখনই ওঠেনি, আগেও উঠছিল। বেশ কয়েক মাস আগে এই স্যালাইনের নমুনা পাঠানো হয়েছিল পরীক্ষার জন্য। তার রিপোর্ট নাকি এখনও আসেনি!
গত আগস্ট মাসে রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইনের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল স্টেট ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবে। কিন্তু সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট এখনও আসেনি বলে জানা গেছে। সেই ল্যাবরেটরিতে এখনও ওই স্যালাইনের নমুনা পড়ে রয়েছে। কিন্তু কেন আজ পর্যন্ত সেই রিপোর্ট মেলেনি? এক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে উঠে এসেছে সেই তথ্য।
সূত্র মারফৎ জানা গেছে, যে স্টেট ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবে এই স্যালাইনের নমুনা পাঠানো হয়েছিল তার অবস্থা শোচনীয়। পরিকাঠানো তো অথৈজলে, পর্যাপ্ত কর্মী পর্যন্ত নেই। ল্যাবরেটরির ৬টি বিভাগে ৪৭ জন অ্যানালিস্ট থাকার কথা থাকলে সেখানে নাকি আছেন ১০ জন! সেই প্রেক্ষিতে বলা যায়, রিঙ্গার ল্যাকটেট নিয়ে এই পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া কার্যত অসম্ভব।
এদিকে স্বাস্থ্য ভবনের তৈরি করে দেওয়া তদন্ত বোর্ডের প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হচ্ছিল রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইনের কারণে মেদিনীপুর মেডিক্যালে ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। বাকি তিনজন আশঙ্কাজনক। কিন্তু ফাইনাল রিপোর্টে নাকি বলা হয়েছে, এই স্যালাইনের দোসর অক্সিটোসিনও। তার অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলেই প্রসূতিদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য ভবনে সাড়ে পাঁচ পাতার রিপোর্ট জমা পড়েছে।
রিপোর্টে এও নাকি বলা হচ্ছে যে, কোনও প্রোটোকল না মেনেই পাঁচ রোগীকে অক্সিটোসিনের হাই ডোজ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত ১০ ইউনিটের বদলে সবাইকে ১৫ থেকে ২৫ ইউনিট অক্সিটোসিন দেওয়া হয়। যার কারণে হু হু করে রোগীদের রক্তচাপ কমে যায়।