
আরজি কর নির্যাতিতার বাবা-মা
শেষ আপডেট: 18 January 2025 16:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর মামলায় রায়দান হয়েছে। শিয়ালদহ আদালতের বিচারপতি একমাত্র অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কেই দোষী সাব্যস্ত করেছেন। মামলার রায় শুনে আদালত কক্ষেই কেঁদে ফেলেছিলেন নির্যাতিতার বাবা-মা। তবে বিচারককে ধন্যবাদ জানালেও এই রায়কেই 'সম্পূর্ণ বিচার' হিসেবে দেখছেন না তাঁরা।
প্রথম থেকেই নির্যাতিতার বাবা-মার দাবি ছিল, এই ঘটনায় সঞ্জয় রায় দোষী হলেও একমাত্র জড়িত নন। আরও অনেকে রয়েছে। কিন্তু সিবিআই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। এমনকী কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে অখুশিও তাঁরা। শনিবার শিয়ালদহ আদালতের রায় শোনার পর তাঁদের বক্তব্য, অনেক প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে। তার উত্তর তাঁরা পাননি। তাই মনে করেন, বিচার এখনও বাকি।
রায়দানের পর শিয়ালদহ আদালতের বিচারককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। তাঁরা বলেছেন, বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখেছিলেন, সেই মর্যাদা তিনি রেখেছেন। তাঁদের কথা শুনে বিচারক বলেন, সোমবার আবার কথা হবে। সেদিন তাঁদের যাবতীয় বক্তব্য শুনবেন তিনি। এরপর আদালত চত্বরের বাইরে এসে তাঁরা বলেন, সঞ্জয়ের সর্বোচ্চ সাজা চাইছেন। একই সঙ্গে, আরও যারা জড়িত তাঁদেরও সাজা চাইছেন তাঁরা। প্রসঙ্গত, আগামী সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ সাজা ঘোষণা করবে আদালত।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪, ৬৬ এবং ১০৩ এর ৩ উপধারায় সঞ্জয় রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪ ধারায় ধর্ষণ, ৬৬ ধাারায় ধর্ষণের সময় এমন আঘাত করা, যার জেরে মৃত্যু হতে পারে এবং ১০৩ এর ধারায় খুনের মামলা আনা হয়েছে। যার অর্থ সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বনিম্ন সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। গত ১১ নভেম্বর শিয়ালদহ আদালতে শুরু হয় এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া। অবশেষে ঘটনার ৫ মাস ৯ দিন পর শনিবার সেই মামলায় রায় ঘোষণা করল শিয়ালদহ আদালত।
শুধু নির্যাতিতার পরিবার নয়, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে প্রতিবাদী জুনিয়র ডাক্তার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের একাংশও। তাঁদের বক্তব্য, সঞ্জয় একা নন, এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত। শনিবারের রায় শুনে প্রতিবাদী জুনিয়র ডাক্তারদের অন্যতম মুখ অনিকেত মাহাতোও বলেন, এটি ন্যূনতম পদক্ষেপ। এখনও অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে।
সঞ্জয় রায় অবশ্য এদিনও নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছে। খুন ধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় বলে, 'আমার গলায় রুদ্রাক্ষের মালা ছিল। ধস্তাধস্তিতে তা ছিঁড়ে যেতে পারত। যাঁরা যাঁরা এই ঘটনায় যুক্ত তাঁদের কেন ছেড়ে দেওয়া হল?' প্রশ্ন তোলে সঞ্জয়।