আরজি কর-কাণ্ডের (RG Kar Case) পাঁচ দিনের মাথায় সারা বাংলার মহিলারা রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। ১৪ এবং ১৫ অগস্টের সন্ধিক্ষণে রাত দখলে নেমেছিলেন কলকাতা থেকে জেলা, শহর থেকে মফস্সলের মেয়েরা।

রিমঝিম সিংহ
শেষ আপডেট: 7 August 2025 21:32
'রাত দখলের' ডাক দিয়ে রাতারাতি ‘বিখ্যাত’ হয়েছিলেন রিমঝিম সিংহ (Rimjhim Sinha)। ‘রিক্লেম দ্য নাইটের’ (Reclaim The Night) ক্যাম্পেনার দ্য ওয়ালকে জানালেন, ৯ অগস্টের মিছিলে থাকছেন না। বরং গত বছরের মতো ১৪ অগস্টের নাগরিক সমাজের মিছিলে পা মেলাবেন তিনি।
আরজি কর-কাণ্ডের (RG Kar Case) পাঁচ দিনের মাথায় সারা বাংলার মহিলারা রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। ১৪ এবং ১৫ অগস্টের সন্ধিক্ষণে রাত দখলে নেমেছিলেন কলকাতা থেকে জেলা, শহর থেকে মফস্সলের মেয়েরা। সেই কর্মসূচির প্রথম আহ্বানটি ছিল রিমঝিমেরই। যে রাতের স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ এবং ব্যাপ্তি কপালে ভাঁজ ফেলেছিল শাসকশিবিরের। আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক হিসাবে রিমঝিমের নিজস্ব পরিচয় তৈরি হয়েছিল। যদিও পরবর্তী কালে রাত দখলের সেই ‘মিলিত’ শক্তি খণ্ডিত হয়েছে। গড়ে উঠেছে আলাদা আলাদা মঞ্চ।
আরজি কর-কাণ্ডের এক বছরের মাথায় 'ঘুম নেই যে রাতে, জেগে থাকি প্রতিবাদে...' এই স্লোগানকে সামনে রেখে ফের রাজ্যজুড়ে রাত দখলের ডাক দেওয়া হয়েছে ৯ অগস্ট। দিনের বেলা হবে নবান্ন ও কালীঘাট অভিযান। এদিন কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় নাচ-গান ছবি আঁকা, নাটকে ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হবে লাখো লাখো মানুষ। আর তাদের সঙ্গে প্রতিবাদে সামিল হবে রাজ্যের বামপন্থী দল ও তার গণসংগঠনগুলো। অংশ নেবেন বিজেপি, প্রদেশ কংগ্রেসের নেতারাও। কিন্তু কোনও রাজনৈতিক ব্যানার ছাড়াই। নানান মঞ্চে গণসংগঠনের ব্যানারে লেখা থাকবে, আরজি কর হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসক তরুণীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় বিচারের দাবি। যদিও এসবে থাকবেন না রিমঝিম। কেন?
দ্য ওয়ালকে রিমঝিম জানান, যেহেতু তাঁরা ১৪ তারিখের কর্মসূচি করছেন, তার প্রচারের জন্য ব্যাস্ততা একটা বড় কারণ। তিনি থাকছেন না মানে এটা নয় যে জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে বা ৯ অগস্টের সঙ্গে কোনও রকম মতানৈক্য আছে। রিমঝিম বলেন, "আগেই কথা দিয়ে দিলাম যাব বলে, অথচ যদি শেষ মুহূর্তে যেতে না পারি, তাহলে অনেকে অনেক কথা বলতে পারেন। ইস্যু তৈরি করবেন।"
বস্তুত, ২৬ দফা প্রশ্নের উত্তর-সহ ন্যায় বিচারের দাবিতে একাট্টা হওয়ার শপথ নেওয়া হবে রাজ্যনৈতিক দল-সহ সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষের তরফে। সেই কথা মাথায় রেখে অভয়া মঞ্চ, জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট থেকে শুরু করে একাধিক সংগঠনের তরফে সাধারণ মানুষকে এই আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদের বক্তব্য, আরজি কর-কাণ্ডের বিচারহীনতার এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে। এরই মাঝে যত্রতত্র খুন ধর্ষণ রাহাজানি বেড়েই চলেছে। এগুলো থেকে মুক্তির উপায় কী? তাই পশ্চিমবঙ্গের সকল সাধারণ মানুষকে ৯ অগস্ট প্রতিবাদে সামিল হওয়ার আবেদন করা হয়েছে।