মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। দগ্ধ গোডাউনের চারপাশ ঘুরে দেখার পাশাপাশি তিনি দমকলের ডিজি-র সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী জানান, এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করা হবে এবং ফরেন্সিক তদন্তসহ সমস্ত প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
.jpeg.webp)
সুজিত বসু
শেষ আপডেট: 27 January 2026 14:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনন্দপুরের নাজিরাবাদে মোমো তৈরির একটি গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের (Anandapur Factory Fire) ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। প্রায় দেড় দিন কেটে গেলেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় উদ্বেগ বাড়ছে। ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে একের পর এক ঝলসে যাওয়া দেহাংশ ও কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও মর্মান্তিক হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু (Sujit Basu)। দগ্ধ গোডাউনের চারপাশ ঘুরে দেখার পাশাপাশি তিনি দমকলের ডিজি-র সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী জানান, এই ঘটনায় এফআইআর (FIR) দায়ের করা হবে এবং ফরেন্সিক তদন্তসহ সমস্ত প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। তবে সংশ্লিষ্ট গোডাউনের ফায়ার অডিট (Fire Audit) হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। অডিট না হয়ে থাকলে কেন তা হয়নি, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
এই প্রসঙ্গেই সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নে কিছুটা বিরক্ত হতে দেখা যায় দমকলমন্ত্রীকে। জানা গিয়েছে, আগুনে ভস্মীভূত গোডাউনটি বহু বছর আগে তৈরি হয়েছিল এবং সেখানে কার্যকর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে ফায়ার অডিট না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে মন্ত্রী কার্যত সংবাদমাধ্যমের ওপরই ক্ষুব্ধ হন।
সুজিত বসুর (Sujit Basu) বক্তব্য, কলকাতায় বহু পুরনো কারখানা ও গোডাউন রয়েছে, যার মধ্যে অনেকেই নিয়ম মেনে লাইসেন্স নিয়ে কাজ করছে, আবার অনেকে বেআইনিভাবেও পরিচালিত হচ্ছে। এই গোডাউনের ক্ষেত্রে ঠিক কী ধরনের কাগজপত্র ছিল, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে বেআইনি কিছু ধরা পড়লে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। আনন্দপুরের ঘটনায় তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ঘটনাস্থলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার কোনও চিহ্ন দমকল কর্মীরা পাননি। ফায়ার অডিট হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।
এদিকে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া দেহ ও কঙ্কালগুলির পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। সম্ভাব্য নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার ফলের সঙ্গে মিলিয়ে শনাক্তকরণের কাজ চলবে। সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই পরিবারগুলিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
ঘটনাস্থলে রাজনৈতিক উত্তেজনাও চোখে পড়ে। পরিদর্শনের সময় দমকলমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান ওঠে বিজেপির তরফে। তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয় বলে অভিযোগ।
সব মিলিয়ে নাজিরাবাদের অগ্নিকাণ্ড শুধুমাত্র একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং শহরের পুরনো কারখানা ও গোডাউনগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল বলে মত বিভিন্ন মহলের।