পদ্মশ্রী সম্মান (Padmashree awardees 2026) ঘোষণার পরই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কে জড়ালেন মাদ্রাজের ডিরেক্টর ভি কামাকোটি। শিক্ষাবিদ ও গবেষণার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তাঁকে পদ্মশ্রী দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর সামাজিক মাধ্যমে কটাক্ষ ছুড়েছে কেরল কংগ্রেস। পাল্টা জবাব দিতে নেমেছেন জোহো কর্পোরেশনের (Zoho) প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু (Sridhar Vembu)—আর সেখান থেকেই শুরু তীব্র বাকযুদ্ধ।

শেষ আপডেট: 27 January 2026 13:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পদ্মশ্রী সম্মান (Padmashree awardees 2026) ঘোষণার পরই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কে জড়ালেন মাদ্রাজের ডিরেক্টর ভি কামাকোটি। শিক্ষাবিদ ও গবেষণার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তাঁকে পদ্মশ্রী দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর সামাজিক মাধ্যমে কটাক্ষ ছুড়েছে কেরল কংগ্রেস। পাল্টা জবাব দিতে নেমেছেন জোহো কর্পোরেশনের (Zoho) প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু (Sridhar Vembu)—আর সেখান থেকেই শুরু তীব্র বাকযুদ্ধ।
২০২২ সাল থেকে আইআইটি মাদ্রাজের (IIT Madras) ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ভি কামাকোটি। পদ্মশ্রী সম্মান পাওয়ার পর তিনি বলেন, এই স্বীকৃতি তাঁর কাছে ‘ব্যক্তিগত নয়, সমষ্টিগত অর্জন’। পাশাপাশি ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যে আরও বেশি করে কাজ করার বার্তাও দেন তিনি।
কিন্তু এই সম্মান ঘোষণার পরেই কেরল কংগ্রেসের এক্স হ্যান্ডল থেকে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করা হয়। সেখানে কামাকোটির আগের এক মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ‘গোমূত্র গবেষণা’কে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার জন্য অভিনন্দন জানানো হয়। উল্লেখ্য, গত বছর ভি কামাকোটি বলেছিলেন, গোমূত্রে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণ রয়েছে এবং তা IBS-সহ কিছু রোগে উপকারী হতে পারে। সেই মন্তব্য ঘিরেই তখন দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
কেরল কংগ্রেসের কটাক্ষের পাল্টা জবাবে শ্রীধর ভেম্বু লেখেন, ভি কামাকোটি ‘ডিপ টেক’-এর গবেষক, মাইক্রোপ্রসেসর ডিজাইনের মতো ক্ষেত্রে কাজ করেছেন এবং দেশের অন্যতম সেরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর মতে, এই সম্মান তিনি পুরোপুরি প্রাপ্য। ভেম্বু আরও দাবি করেন, গোমূত্র ও গোবরের মাইক্রোবায়োম নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে এবং একে শুধুমাত্র ‘ঔপনিবেশিক মানসিকতা’ থেকে অস্বীকার করা ঠিক নয়।
এরপরেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়। কেরল কংগ্রেস পাল্টা প্রশ্ন তোলে—শুধু গরুর গোবর ও গোমূত্র নিয়েই কেন গবেষণা? অন্য প্রাণীর ক্ষেত্রে কেন নয়? তারা মধ্যপ্রদেশে পঞ্চগব্য নিয়ে হওয়া একটি সরকারি অর্থপোষিত গবেষণার উদাহরণ টেনে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও তোলে।
সবশেষে কেরল কংগ্রেস সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় শ্রীধর ভেম্বুর দিকে। তাদের বক্তব্য, যদি গোমূত্রের এত উপকারিতা সত্যিই থাকে, তবে একজন বিলিয়নিয়ার হিসেবে ভেম্বু নিজেই কেন সেই গবেষণায় বিনিয়োগ করছেন না? ক্যানসারের মতো রোগ সারাতে যদি তা কার্যকর প্রমাণিত হয়, তবে সেটাই হবে বিশ্বের কাছে ভারতের অন্যতম বড় অবদান—এই দাবিতেই চ্যালেঞ্জ ছোড়ে কংগ্রেস।
এই বিতর্কে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও রাজনীতির সীমারেখা আবারও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ল—আর সেই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়ে গেল তুমুল আলোচনা।