পাঞ্জাব পুলিশের প্রাক্তন ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল (DIG) সিধু গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চণ্ডীগড়ের সেক্টর–৪৯ এলাকায় নিয়মিত ঝাঁটা হাতে নেমে পড়েন।

ইন্দরজিৎ সিং সিধু
শেষ আপডেট: 26 January 2026 15:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলিশের (Police) পোশাক ছেড়েছেন তা অনেক বছর হয়ে গিয়েছে। কিন্তু দায়িত্ববোধ ছাড়েননি এক মুহূর্তের জন্যও। সেই কর্তব্যবোধই এবার তাঁকে পৌঁছে দিল পদ্ম সম্মানে (Padma Samman)। চণ্ডীগড়ের (Chandigarh) রাস্তাঘাট নিজের হাতে পরিষ্কার করার জন্য পদ্মশ্রী (Padma Shri Award) পাচ্ছেন ৮৮ বছরের প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক ইন্দরজিৎ সিং সিধু (Inderjit Singh Sidhu)।
পাঞ্জাব পুলিশের প্রাক্তন ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল (DIG) সিধু গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চণ্ডীগড়ের সেক্টর–৪৯ এলাকায় নিয়মিত ঝাঁটা হাতে নেমে পড়েন। নিজের আবাসনের পাশাপাশি আশপাশের রাস্তা, খোলা জায়গা পরিষ্কার করাই তাঁর নিত্যদিনের রুটিন। গত বছর তাঁর এমনই একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। ব্যাপক প্রশংসার পরেই নজরে আসে প্রশাসনের।
সিধুর বাড়ি সেক্টর–৪৯-এর আইএএস–আইপিএস আবাসনে। পাঞ্জাবের সাঙ্গরুর জেলার ধুরি থানার বুগরা গ্রামের বাসিন্দা তিনি। পরিচিতজনেরা অনেকেই ভিডিও তুললেও কাজে কোনও বিরতি দেননি সিধু। তাঁর কথায়, পরিবেশ পরিষ্কার রাখাই একমাত্র উদ্দেশ্য।
গত ১৫ অগস্ট রাজ্যপাল তাঁর কাজের স্বীকৃতি দিতে একটি সম্মান ঘোষণা করেছিলেন। তবে হঠাৎ করে বাড়তি প্রচারের চাপে সেই অনুষ্ঠানে হাজির হতে পারেননি সিধু। তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন, অযথা প্রচারে তিনি অস্বস্তি বোধ করেন।
১৯৬৩ সালে পাঞ্জাব পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে ইন্সপেক্টর হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন সিধু। ১৯৮১ সালে আইপিএস ক্যাডারে উন্নীত হন। পাঞ্জাবে সন্ত্রাসের উত্তাল সময়ে ১৯৮৬ সালে অমৃতসরে সিটি এসপি হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। পরে চণ্ডীগড়ে ডিআইজি (সিআইডি) পদে কাজ করে ১৯৯৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর অবসর নেন। তাঁর স্ত্রী দবিন্দর পাল কৌর প্রয়াত হন ২০২৩ সালে। ছেলে থাকেন আমেরিকায়, মেয়ে মোহালিতে।
এক সাক্ষাৎকারে সিধু বলেছিলেন, “চণ্ডীগড় দেশের সবচেয়ে সুন্দর শহর। কিন্তু শিক্ষিত মানুষই যখন দামি গাড়ি থেকে রাস্তায় আবর্জনা ফেলেন, তখন কষ্ট লাগে। তাই দোষারোপ না করে নিজেই কাজে নেমেছি।” আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করেছি একসময়, এখন লড়ছি নোংরামির বিরুদ্ধে। যত দিন শরীর সায় দেবে, এই কাজ চালিয়ে যাব।”
মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না, সংবাদমাধ্যম থেকেও দূরে থাকতেই পছন্দ করেন সিধু। তবু তাঁর নীরব কাজই আজ তাঁকে এনে দিল দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মান। অনেকের মতে, এই পদ্মশ্রী শুধু একজন মানুষকে নয়, নাগরিক দায়িত্ববোধকেই সম্মান জানাল।