শনিবার ভোরে নিউটাউনের শাপুরজির একটি অভিজাত আবাসন থেকে পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিল পাটনা এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। ধৃতদের মধ্যে চার জন সরাসরি খুনের সঙ্গে যুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আনন্দপুর থেকে আটক আরও ৫
শেষ আপডেট: 19 July 2025 23:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাটনার হাসপাতালে গুলিকাণ্ডে কলকাতা থেকে আটক আরও পাঁচজন। শনিবার রাতে আনন্দপুর এলাকার একটি গেস্ট হাউসে অভিযান চালিয়ে তাদের ধরল পুলিশ। পাটনার হাসপাতালে আইসিউতে ঢুকে এক গ্যাংস্টারকে গুলি করে খুনের ঘটনায় পুলিশের জালে এখনও পর্যন্ত ১১ জন।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার দিন সিসিটিভি ফুটেজে একটি গাড়িকে কলকাতার দিকে আসতে দেখা যায়। সেই গাড়ির সূত্র ধরেই তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া যায়। এরপর কলকাতার আনন্দপুর, ভাঙড়-সহ বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় তল্লাশি। অবশেষে আনন্দপুরের একটি গেস্ট হাউস থেকে সন্দেহভাজন পাঁচ জনকে আটক করে পুলিশ।
সেই গেস্ট হাউসের উল্টো দিকের এক বাসিন্দা জানান, 'সন্ধে সাড়ে ৭টা নাগাদ দেখি এলাকা পুলিশে ভরে গেছে। একটু পরেই একটি অ্যাম্বুলেন্স এসে দাঁড়ায়। একজনকে স্ট্রেচারে শুইয়ে নামানো হয়। তিনি বেঁচে ছিলেন না, মারা গিয়েছেন, বোঝা যাচ্ছিল না। পুলিশ ঘণ্টাখানেক ছিল, তার মধ্যেই সব কিছু ঘটে যায়।” এই ঘটনার জেরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়।
এর আগেই শনিবার ভোরে নিউটাউনের শাপুরজির একটি অভিজাত আবাসন থেকে পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিল পাটনা এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। ধৃতদের মধ্যে চার জন সরাসরি খুনের সঙ্গে যুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ পাটনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ঢুকে এক গ্যাংস্টারকে আইসিইউ-র মধ্যেই গুলি করে খুন করে দুষ্কৃতীরা। নিহতের নাম চন্দন মিশ্র। বিহারের বক্সারের বাসিন্দা চন্দনের নামে ২৪টি ফৌজদারি মামলা ছিল, যার মধ্যে ১২টি খুনের অভিযোগ।
চিকিৎসার জন্য পুলিশের পাহারায় হাসপাতালে ভর্তি ছিল চন্দন। কিন্তু সেই নিরাপত্তা ভেঙেই বৃহস্পতিবার সকালবেলায় এক দল দুষ্কৃতী হাসপাতালে ঢুকে পড়ে এবং আইসিইউ-তেই চন্দনকে গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরই মূল অভিযুক্ত তৌসিফ রাজাকে গ্রেফতার করেছিল পাটনা পুলিশ। তারপর ধরা পড়ছে একে একে বাকিরাও।
খুনের মূল কারণ, প্রাক্তন দুই সঙ্গী চন্দন মিশ্র ও শেরু গ্যাংয়ের নেতৃত্ব শেরুর মধ্যে পুরনো দ্বন্দ্ব। জেলে থাকাকালীন তাঁদের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়, চন্দন পরে ‘শেরু গ্যাং’ নাম ব্যবহার করেই পৃথক গোষ্ঠী গড়ে তোলে। সেই জেরেই এই হামলা, অনুমান পুলিশের। সেই রেষারেষিতেই কি মৃত্যু, আর কে বা কারা এই ঘটনায় যুক্ত রয়েছে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত এখনও চলছে। কলকাতা এবং পাটনার পুলিশের যৌথ অভিযান অব্যাহত বলেই জানিয়েছে পুলিশ।