ঘটনার পর সায়ক শুক্রবার ও শনিবার দু’টি ফেসবুক লাইভ করে গোটা ঘটনাটি প্রকাশ্যে এনেছিলেন। যদিও বর্তমানে সেই লাইভ ভিডিওগুলি আর সোশ্যাল মিডিয়ায় নেই।

শেষ আপডেট: 31 January 2026 19:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পার্ক স্ট্রিটের অলিপাব (Olypub) রেস্তরাঁয় শুক্রবারের নৈশভোজ থেকে বিতর্কের শিরোনামে উঠে এলেন টলিপাড়ার অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী (Sayak Chakraborty)। বন্ধুদের সঙ্গে ডিনারে গিয়ে আচমকাই এক অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন ইনফ্লুয়েন্সার। অভিযোগ, পাঁঠার মাংসের স্টেক অর্ডার দেওয়া হলেও তাঁদের টেবিলে পরিবেশন করা হয়েছে 'বিফ' (Sayak Chakraborty beef controversy)।
সেই প্রেক্ষিতে পার্ক স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন অভিনেতা। শনিবার সংশ্লিষ্ট রেস্তরাঁর এক ওয়েটারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ (Olypub waiter arrested in beef controvesry)।
কোন ধারায় দায়ের মামলা?
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯ ধারায় দায়ের হয়েছে মামলা। সংশ্লিষ্ট ধারা বলছে, কোনও নির্দিষ্ট শ্রেণির ধর্মীয় বিশ্বাসে ইচ্ছাকৃত আঘাত করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয়ই হিতে পারে। গোটা ঘটনায় রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনার পর সায়ক শুক্রবার ও শনিবার দু’টি ফেসবুক লাইভ (Sayak Chakraborty facebook live beef controversy) করে গোটা ঘটনাটি প্রকাশ্যে এনেছিলেন। যদিও বর্তমানে সেই লাইভ ভিডিওগুলি আর সোশ্যাল মিডিয়ায় নেই।
ঠিক কী ঘটেছিল?
জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় সায়কের সঙ্গে ছিলেন তাঁর দুই বন্ধু অভিনেত্রী অনন্যা গুহ ও সুকান্ত কুণ্ডু। তিনজনেই মাটন স্টেক অর্ডার করেছিলেন বলে দাবি। সায়কের বক্তব্য, প্রথমে তাঁরা বুঝতেই পারেননি ঠিক কী পরিবেশন করা হয়েছে। পরে যখন ওয়েটার আরও একটি স্টেকের প্লেট টেবিলে রেখে যান, তখনই বিষয়টি নিয়ে তাঁদের সন্দেহ তৈরি হয়।
সায়ক জানান, তাঁরা একটিই স্টেক অর্ডার করেছিলেন। অথচ টেবিলে দুটি আলাদা স্টেক আসায় প্রশ্ন তুললে ওয়েটার দাবি করেন, একটি মাটন ও একটি বিফ - দুটি স্টেকই নাকি অর্ডার করা হয়েছিল। সেই মুহূর্ত থেকেই শুরু হয় বচসা।
সায়কের কথায়, অজান্তে 'বিফ' খেয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং তীব্র প্রতিবাদ জানান। ফেসবুক লাইভে তাঁকে বলতে শোনা যায়, তিনি একজন ব্রাহ্মণ এবং তাঁকে না জানিয়ে কীভাবে এমন খাবার পরিবেশন করা হল? সেটা নিয়ে তিনি ক্ষোভ উগরে দেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। কথোপকথনের এক পর্যায়ে ওয়েটারের ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন ওঠে, যা ওই পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
শেষ পর্যন্ত ওয়েটার ভুল স্বীকার করলেও রেস্তরাঁর ভেতরে দীর্ঘ সময় ধরে বচসা চলেছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনার জেরেই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন অভিনেতা এবং তার ভিত্তিতেই শনিবার সংশ্লিষ্ট ওয়েটারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে বিষয়টি ঘিরে সমাজমাধ্যম ও টলিপাড়ায় শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও মতবিরোধ। অনেকেই মুখ খুলেছেন, কেউ সায়কের হয়ে কথা বলেছেন আবার কেউ অভিনেতার বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। রেস্তরাঁর ভুল, না কি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত - এই প্রশ্ন ঘিরেই এখন সরগরম নেটদুনিয়া।