
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 26 June 2024 22:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুর এলাকার পরিষেবা ও সরকারি জমি জবরদখলের ব্যাপারে সোমবার নবান্নে বৈঠক ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পর দিন থেকে কলকাতা, হাওড়া, বিধাননগর-সহ গোটা রাজ্য জুড়ে বেআইনি জবরদখল ও উচ্ছেদ অভিযানে নেমে পড়েছে পুলিশ ও প্রশাসন।
ব্যাপারটা যখন মধ্যগগণে তখন বৃহস্পতিবার ফের নবান্নে বৈঠক ডাকলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবারের বৈঠকেও আলোচ্য বিষয় হকার উচ্ছেদ ও বেআইনি জবর দখল। কলকাতা, বিধাননগর-সহ পুর নিগম ও পুরসভার চেয়ারম্যান, সমস্ত জেলার পুলিশ সুপার ও জেলা শাসকদের ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
শুধু তা নয়, কলকাতা, হাওড়া ও বিধাননগর কমিশনারেটের অধীনে সমস্ত থানার ওসি, আইসিদের সশরীরে নবান্নের বৈঠকে থাকতে বলা হয়েছে। নবান্নের এই নির্দেশিকা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের স্রোত বইতে শুরু করেছে পুলিশ ও প্রশাসনের মধ্যে।
মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পর হই হই করে হকার উচ্ছেদে নেমেছে পুলিশ। পরিস্থিতির জেরে হকারদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই অবশ্য জবরদখলকারী। ফুটপাত জুড়ে যাঁরা দোকান সাজিয়ে বসেছে। শুধু হকার নয়, সরকারি জমিতে, খাল পাড়ে বস্তি উচ্ছেদও চলছে বিক্ষিপ্ত ভাবে।
সূত্রের খবর, শহরের একাংশ বাসিন্দা যেমন হকার উচ্ছেদের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানাচ্ছেন তেমনই রাতারাতি বেশ কিছু মানুষের রুটিরুজি হারানো নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। কারণ, যাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে, তাদের সকলেই অল্প কিছুদিন দোকান করে বসে রয়েছেন এমনটা নয়। এদের মধ্যে অনেকেই প্রায় ১০ বছরের বেশি সময় ধরে ফুটপাতে দোকান করে রয়েছেন।
এদিনও উচ্ছেদ করতে যাওয়া পুলিশ কর্মীদের পা ধরে অনেক হকারকে কাঁদতে দেখা যায়। সূত্রের খবর, এ ব্যাপারে কোনও একটি পলিসি ঠিক করতে এদিনের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সূত্রের খবর, ফরেস্ট গার্ড নিয়ে নতুন রুল নিয়ে আসছে সরকার। এদিনের বৈঠক থেকে রাজ্যের বিভিন্ন দফতরে ৫৫২টি নতুন পদ তৈরি করা হয়েছে।
গত সোমবারের বৈঠকে পুলিশ, প্রশাসন এবং পুরসভার কাউন্সিলরদের একাংশের নাম না করে তোলাবাজির অভিযোগে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বভাবতই, ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে মুখ্যমন্ত্রী ফের বৈঠক ডাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে প্রশাসনের অন্দরেও।