দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড বিধি নিয়ে কড়াকড়ি আরও বাড়াতে শুক্র শনি পর পর দুদিন জেলাশাসক ও মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। জারি হয়েছে আরও একপ্রস্থ কড়া নির্দেশও। এবার শহরের পানশালাগুলিতেও রাতের দিকে নজরদারি বাড়াচ্ছে নবান্ন।
নবান্ন সূত্রের খবর, মুখ্যসচিব এদিন কলকাতা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন, শহরের যে সমস্ত পানশালাগুলি এখনও রাত ৮টার পর খোলা থাকছে, সরকারি বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে যেখানে এখনও রাতের দিকে চলছে উদ্দাম পার্টি, সেখানে হানা দিতে হবে। আচমকা পুলিশি হানায় নৈশ পার্টি বন্ধ করতে হবে।
এমনিতেই এদিন মুখ্যসচিব নির্দেশ দিয়েছেন কোভিড আবহে নাইট কার্ফু কড়া করতে হবে। রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বাইরে বেরোলেই হবে মোটা অঙ্কের জরিমানা, নবান্ন সূত্রের খবর তেমনটাই। এর মাঝে শহরের পানশালা গুলিতেও আলাদা করে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
জানা গেছে, রাতে বিভিন্ন পাঁচতারা বা তিনতারা হোটেলে, বিশেষ করে পানশালাতে আজকাল রাত ৯টার পর থেকে প্রায় মাঝরাত পর্যন্ত পার্টি চলছে। এই রেওয়াজ বন্ধ করতেই কলকাতা পুলিশকে সবরকম পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিন সমস্ত জেলার জেলাশাসকদের নির্দেশ দিয়ে মুখ্যসচিব বলেছেন, কোভিডের তৃতীয় ঢেউ ঠেকাতে কতটা সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করা যায় তা আগে নিশ্চিত করতে হবে। ভিড়, জমায়েত, মেলামেশায় লাগাম টানতে হবে। রাজ্যের তরফে কোভিডের যে গাইডলাইন বলে দেওয়া হয়েছে তা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে। এর অন্যথা দেখলেই জরিমানা করা হবে। প্রয়োজনে নাকা চেকিংয়ের মাধ্যমে আরও কড়া ব্যবস্থার নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যসচিব।
দিন কয়েক আগেই শহরের এক নামজাদা হোটেলে কোভিডবিধির তোয়াক্কা না করে উদ্দাম পার্টি চলার খবর পাওয়া গিয়েছিল। তারস্বরে বাজছিল সাউন্ড বক্স, উদ্দাম নাচ-গান চলেছিল মধ্যরাত অবধি। খবর পেয়ে মাঝরাতেই সেখানে হানা দেয় পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় ৩৭ জনকে। ঘটনাস্থল থেকে গাঁজার পুরিয়াও পাওয়া গেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
সূত্র মারফত এও জানা গেছে, রবীন্দ্র সদনের কাছে আরও এক নামজাদা হোটেলের নামও রয়েছে এই বিধিভঙ্গের তালিকায়।
এই অবস্থায় এবার দফায় দফায় শহর এবং শহরতলির পানশালা ও হোটেলগুলিতে হানা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে কলকাতা পুলিশ। তাতে সচেতনতা বাড়ে কিনা সেটাই এখন দেখার।