মোদী (PM Narendra Modi) এদিন আরও বলেন, অনুপ্রবেশ (Infiltration) রোখার যে নীতি, তার বিরোধিতা করতে গিয়ে তৃণমূল, কংগ্রেসের (TMC) মতো কয়েকটি দল ইন্ডিয়া জোটের (INDIA Alliance) নামে তুষ্টিকরণের রাজনীতি করছে।
.jpeg.webp)
জনসভায় নরেন্দ্র মোদী।
শেষ আপডেট: 22 August 2025 21:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi) কলকাতা সফরে এসে, পশ্চিমবঙ্গের অনুপ্রবেশকে যে একটা মুখ্য হাতিয়ার (Infiltration Issue) হিসেবে ব্যবহার করবেন, তা সকালেই পরিষ্কার লিখেছিল 'দ্য ওয়াল'। কার্যক্ষেত্রে হলও তাই। বিকেলে দমদম সেন্ট্রাল জেলের মাঠ থেকে জনসভা করার সময়ে অনুপ্রবেশ ইস্যুতেই তৃণমূলকে বারবার বিঁধলেন মোদী।
এদিন মোদী বলেন, 'এবারে লালকেল্লার সভা থেকে আমি বড় উদ্বেগের কথা বলেছিলাম অনুপ্রবেশ নিয়ে। কলকাতার লোক তো আগেভাগে সব কিছু ভাবে। তাই সবসময় আপনাদের কথাকে আমি আগে গুরুত্ব দিই। তাই অনুপ্রবেশ রুখতে চাইছি।'
এখন প্রশ্ন হল, লালকেল্লার সভা থেকে মোদী কী বলেছিলেন ১৫ অগস্ট? অনুপ্রবেশের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী সেদিন বলেছিলেন,“দেশবাসীকে আমি একটি বড় উদ্বেগের কথা জানাতে চাই। ষড়যন্ত্র করে দেশের জনসংখ্যার বিন্যাস বদলানো হচ্ছে। এর ফলে আমাদের যুবকদের রুজি-রোজগার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, আমাদের বোন-মেয়েদের টার্গেট করা হচ্ছে, জনজাতিদের ভুল পথে চালিত করে তাদের জমি দখল করা হচ্ছে। এ সব কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। কারণ এটা ভয়ঙ্কর সংকট ডেকে আনতে পারে।”
পাশাপাশি, অনুপ্রবেশ সমস্যা ঠেকাতে নতুন ‘ডেমোগ্রাফি মিশন’ (Demography Mission) গঠনের ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সেদিনের ঘোষণা ধরেই এদিন সকালে দ্য ওয়াল লিখেছিল, অনুপ্রবেশের তির আস্তিনে নিয়েই আজ কলকাতায় ভাষণ দেবেন তিনি। সেইমতোই অনুপ্রবেশের কথা ওঠে এদিনের বক্তৃতায়।
মোদী এদিন আরও বলেন, অনুপ্রবেশ রোখার যে নীতি, তার বিরোধিতা করতে গিয়ে তৃণমূল, কংগ্রেসের মতো কয়েকটি দল ইন্ডিয়া জোটের নামে তুষ্টিকরণের রাজনীতি করছে। তাঁর কথায়, 'এতে সারা দেশের সঙ্গে বাংলাতেও সঙ্কট তৈরি হচ্ছে। যারা আমাদের মানুষের রুটি, রুজি ছিনিয়ে নিতে চাইছে, তাদের এখান থেকে যেতে হবেই। এটা আমরা করবই। আর সেটা হলে এখান থেকে তৃণমূলের সরকারও বিদায় নিশ্চিত।'
বস্তুত, বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশের বিষয়টি নিঃসন্দেহে একটি গুরুতর সমস্যা, এ ব্যাপারে রাজনৈতিক মহলে কোনও দ্বিমত নেই। তবে সমালোচকদের মতে, এই ইস্যুকেই বিজেপি বারবার ব্যবহার করেছে ধর্মীয় মেরুকরণ বাড়ানোর অস্ত্র হিসেবে। দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের বিশ্বাস, পশ্চিমবঙ্গই এই ধরনের রাজনীতির জন্য সবচেয়ে উর্বর ক্ষেত্র।
এই প্রথম নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হোক বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ— বারবার তাঁদের বক্তৃতায় উঠে এসেছে অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ। আর প্রত্যেকবারই তৃণমূল কংগ্রেসের পাল্টা প্রশ্ন উঠেছে, “সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব কার? বিএসএফেরই তো! তাহলে ব্যর্থ হলো কারা?”
কিন্তু এবার বিজেপিও পাল্টা কৌশল নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় আসার আগেই অনুপ্রবেশ ইস্যুতে রাজ্যে বিরোধী আবহ তৈরি করতে সক্রিয় হয়েছেন দলের নেতারা। বিজেপির মুখপাত্র এবং পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অমিত মালব্য অভিযোগ তুলেছেন, “ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য ২,২১৬.৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে এখনও ৫৬৯ কিলোমিটার অংশে বেড়া হয়নি। ১৮১ কিলোমিটার জমির টাকা কেন্দ্র সরকার দিলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সেই জমি সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজে কেন্দ্রকে হস্তান্তর করেনি। ফলে সীমান্ত সুরক্ষার কাজ আটকে রয়েছে।”
শুধু তাই নয়, মালব্যর দাবি, বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া না থাকায় সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে পাচারকারীরা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৪ হাজার কেজি মাদক পাচার হয়েছে। শুধু মাদকই নয়, গরু পাচার, জাল নোটের ব্যবসা এবং অনুপ্রবেশও অব্যাহতভাবে চলছেই।
ফলে অনুপ্রবেশের ইস্যু নিয়ে রাজনীতির ময়দান ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একদিকে বিজেপি সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে তৃণমূলের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে তৃণমূল পাল্টা দোষ চাপাচ্ছে কেন্দ্রের দিকেই। আসন্ন রাজনৈতিক সমরে এই বিতর্ক যে বড় ভূমিকা নেবে, তা বলাই বাহুল্য।