আরজি কর হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনায় এসএফআই-এর বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল। ভিডিও দেখিয়ে দাবি করেছিল যে, হাসপাতালে ভাঙচুর ওই নেতানেত্রীরাই করেছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 25 August 2025 21:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বছর ১৪ অগস্টের রাতের সেই ঘটনা এখনও অনেকের মনে তাজা। ‘রাত দখল’-এর (Reclaim The Night) কর্মসূচি চলাকালীন আরজি কর হাসপাতালে (RG Kar Hospital) ঘটে গেছিল ভাঙচুর। সেই মামলাতেই সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় (Minakshi Mukherjee)-সহ একাধিক বাম নেতানেত্রীর নাম জড়িয়েছিল। সোমবার তাঁরাই জামিন পেলেন শিয়ালদহ আদালত (Sealdah Court) থেকে। মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়-সহ ৮ জনকে জামিন দিয়েছে আদালত।
আরজি কর হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনায় এসএফআই-এর বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল (TMC)। ভিডিও দেখিয়ে দাবি করেছিল যে, হাসপাতালে ভাঙচুর ওই নেতানেত্রীরাই করেছে। তারপর মামলা দায়ের হয় পুলিশে। চার্জশিট কিছুদিন আগেই দাখিল হয়েছিল। এরপরই আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেন বাম নেতানেত্রীরা। ফলত, মিলল জামিন।
তাঁদের আইনজীবী ইয়াসিন রহমান জানান, ‘‘ওই রাতে দুষ্কৃতীরা হাসপাতালে তাণ্ডব চালালেও পুলিশ প্রকৃত দোষীদের ধরতে পারেনি। বরং আন্দোলনে সামিল বহু প্রতিবাদীকে অযথা মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাই আমরা আত্মসমর্পণ করে আইনগতভাবে লড়াই চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আদালত আমাদের বক্তব্য শুনে জামিন দিয়েছে।’’
আট জনের তালিকায় রয়েছেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, কলতান দাশগুপ্ত, এসএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে, দিধীতি রায়, বর্ণনা মুখোপাধ্যায়, পৌলবী মজুমদার, মহিলা নেত্রী দীপু দাস এবং বিকাশ ঝা। তিনটি পৃথক মামলায় তাঁদের নাম রয়েছে যার মধ্যে দুটি দায়ের হয়েছিল টালা থানায় এবং একটি উল্টোডাঙা থানায়।
প্রসঙ্গত, গত বছর ১৪ অগস্ট রাতভর চলছিল ‘মেয়েদের রাত দখল’ কর্মসূচি। আরজি করের অদূরেই ছিল বাম ছাত্র-যুবদের অবস্থান। সেই সময় একদল দুষ্কৃতী হাসপাতালে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। পুলিশি তদন্তে মিনাক্ষী-সহ একাধিক নেতানেত্রীর নাম উঠে আসে। এর আগে মীনাক্ষীকে লালবাজারে হাজিরা দিতে হয়েছিল। সিবিআইও জেরা করেছিল তাঁকে।
রাজনৈতিক মহলে এই জামিনকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। বাম নেতৃত্বের দাবি, প্রতিবাদকে দমন করার জন্যই এই মামলা চাপানো হয়েছিল। অন্যদিকে শাসক শিবিরের বক্তব্য, আইন অনুযায়ী তদন্ত চলছে, আদালতই ঠিক করবে কারা দোষী।
এক বছরের বেশি সময় ধরে টানাপড়েন চলা এই মামলায় আপাতত স্বস্তি পেলেন মীনাক্ষীরা।