গত ১৩ ডিসেম্বর কলকাতা সফরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এসেছিলেন লিওনেল মেসি (Leonel Messi)। তাঁকে দেখতে কয়েকশো ফুটবলপ্রেমী টিকিট কেটে স্টেডিয়ামে হাজির ছিলেন।

যুবভারতী বিশৃঙ্খলা
শেষ আপডেট: 23 December 2025 12:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লিওনেল মেসির কলকাতা সফরে (Messi in Kolkata) যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, সেই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ৯ জনের অন্তর্বর্তী জামিন (Interim bail) মঞ্জুর করল বিধাননগর আদালত। এই ঘটনায় তদন্ত চালাচ্ছে সিট (SIT)। ইতিমধ্যেই অনলাইন টিকিট বিক্রি সংস্থার কর্মকর্তা-সহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে ধৃতদের অন্তর্বর্তী জামিন, যুবভারতীকাণ্ডে প্রথম বড় আইনি অগ্রগতি।
গত ১৩ ডিসেম্বর কলকাতা সফরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এসেছিলেন লিওনেল মেসি (Leonel Messi)। তাঁকে দেখতে কয়েকশো ফুটবলপ্রেমী টিকিট কেটে স্টেডিয়ামে হাজির ছিলেন। মেসি আসতেই তাঁদের উচ্ছ্বাস-উৎসাহ দ্বিগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটাই রূপ নেয় অশান্তির ঘটনায়।
অভিযোগ, সেদিন যুবভারতীতে আর্জেন্টিনার তারকা লিওনেল মেসির সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস-সহ প্রায় শতাধিক ভিআইপি অতিথি। তাঁরা একেবারে ঘিরে ছিলেন মেসিকে। গ্যালারিতে বসা সাধারণ দর্শকদের অভিযোগ—মেসি মাঠে ঢোকার সময় তাঁরা এক ঝলকও দেখতে পাননি। হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে এসেছিলেন তাঁরা। কিন্তু ভিআইপিরা যেভাবে ঘিরে রেখেছিলেন তারকাকে, তাতে দর্শকদের মধ্যে ক্ষোভ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।
মেসির ঝলক না দেখতে পাওয়ায় অনেকেই বিরক্ত হয়ে পড়েন। মুহূর্তে সেই ক্ষোভ রূপ নেয় বিশৃঙ্খলায়।স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অংশে শুরু হয় তুমুল উত্তেজনা। গ্যালারি থেকে চেয়ার ভাঙা, মাঠে বোতল ছোড়া—এমনকী ভিআইপি সিটে আগুন লাগানোর মতো ঘটনাও ঘটে। ঐতিহ্যবাহী যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কয়েক মিনিটেই। ক্ষোভ থেকে মাঠে সাজানো কার্পেট, ফুলের টব পর্যন্ত কেউ কেউ ধরে নিয়ে পালাচ্ছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে সেই ভিডিও।
স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে বিধাননগর পুলিশ (Bidhannagar Police)। ওইদিনই বিমানবন্দর থেকে মেসির ভারত সফরের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। দর্শকাসন থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিলেন এই অভিযোগে শুরু হয় ধরপাকড়। বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ দ্রুত তদন্তে নেমে ৯ জনকে গ্রেফতার করে। তাঁদের বিরুদ্ধে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়।
আদালত তাঁদের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছে। আদালত জানিয়েছে, তদন্তে সহযোগিতা করার শর্তে তাঁরা জামিনে মুক্ত থাকবেন।
যুবভারতীকাণ্ডের জল গড়িয়েছে অনেকদূর। এই ঘটনায় দেখা গেছে রাজনৈতিক মহলের তীব্র সমালোচনা। বিশৃঙ্খলার জন্য শাসক দলকেই কাঠগড়ায় তুলেছে বিরোধী দলগুলি। নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ক্রীড়ামন্ত্রী পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) চিঠি পাঠিয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস (Arup Biswas)। বর্তমানে ক্রীড়া দফতর নিজের কাছে রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
অন্যদিকে, যুবভারতীতে মেসিকে (Messi case in Yuva Bharati) এক ঝলক দেখার আশায় জমায়েত, কিন্তু মাঠে সেই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় ভাঙচুর, জল-বিতর্ক এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণ- এই তিনটি বিষয় ঘিরে হাইকোর্টে (Calcutta High Court) দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার শুনানি শেষ হয় সোমবার। তবে রায়দান আপাতত স্থগিত রেখেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।