স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শমীককিশোর গুপ্ত কলাবাগান এলাকার বাড়িতে অসুস্থ স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। সঞ্জিত পেশায় রাজমিস্ত্রি। ওই বাড়িতে কাজের সূত্রেই প্রৌঢ়ের মেয়ের সঙ্গে পরিচয় এবং সেখান থেকে সম্পর্ক তৈরি হয় সঞ্জিতের।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 14 September 2025 16:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণ কলকাতার গলফগ্রিনে নৃশংস হত্যাকাণ্ডে রীতিমতো চাঞ্চল্য (Golfgreen Murder)। শনিবার সকালে নিজের বাড়ি থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় শমীককিশোর গুপ্ত নামে এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী শমীককিশোর গুপ্তর দেহ। প্রতিবেশীরাই প্রথম তাঁকে দেখতে পান এবং পুলিশে খবর দেন। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে, এই খুনের নেপথ্যে রয়েছেন বৃদ্ধেরই জামাই সঞ্জিত দাস।
পুলিশ সূত্রে খবর, সঞ্জিত প্রথমে শ্বশুরকে সিঁড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। আহত অবস্থায় তাঁকে আবার বিছানায় তুলে রাখেন। কিন্তু এতে মৃত্যু হয়নি দেখে আবার সিঁড়ি থেকে ফেলে দেন যাতে মৃত্যু নিশ্চিত হয়। এভাবে বারবার এই কাজ করেন অভিযুক্ত। ঘটনার পর সঞ্জিত ও তাঁর স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। শেষমেশ পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। জেরায় খুনের কথা স্বীকার করেছে সে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শমীককিশোর গুপ্ত কলাবাগান এলাকার বাড়িতে অসুস্থ স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। সঞ্জিত পেশায় রাজমিস্ত্রি। ওই বাড়িতে কাজের সূত্রেই প্রৌঢ়ের মেয়ের সঙ্গে পরিচয় এবং সেখান থেকে সম্পর্ক তৈরি হয় সঞ্জিতের। প্রায় কুড়ি দিন আগে তাঁদের বিয়ে হয়।
শমীককিশোরের পরিবার এই বিয়ে মেনে নেয়নি। বিয়ের পর থেকেই সম্পত্তি নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে অশান্তি চলছিল। পুলিশের দাবি, শুক্রবার সেই ঝামেলা চরমে ওঠে এবং তারপরই এই খুন। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রতিবেশীদের দাবি, বৃদ্ধ শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তাঁর এভাবে মৃত্যুতে সকলে শোকাহত। ঘটনার নেপথ্যে সম্পত্তি-সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব রয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।