বিগত কয়েক মাসে বারবার ভিনরাজ্যে বাঙালিদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে, অত্যাচার করা হচ্ছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 20 September 2025 17:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার শহর কলকাতার একাধিক দুর্গাপুজো মণ্ডপ (Durga Puja) উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তার মধ্যে ছিল হাতিবাগান সর্বজনীন (Hatibagan Sarbojonin), টালা প্রত্যয় (Tala Prottoy) এবং শ্রীভূমি স্পোর্টিং (Sreebhumi Sporting)। মণ্ডপ উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে তিনি নানা স্মৃতিচারণ করেন। তবে রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিক (Migrant Workers) এবং ভিনরাজ্যে বাঙালিদের ওপর অত্যাচারের কথা ভোলেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্রীভূমির অনুষ্ঠান থেকেই এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিগত কয়েক মাসে বারবার ভিনরাজ্যে বাঙালিদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল (TMC)। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে, অত্যাচার করা হচ্ছে। শনিবার পুজো উদ্বোধনের মঞ্চ থেকেও এই বিষয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। শ্রীভূমির অনুষ্ঠান থেকে বলেন - বাংলায় কথা বললেন অত্যাচার করা হবে, এই বিষয়ের সঙ্গে আমি কখনই একমত নই।
মমতার কথায়, ''আমি সব ভাষাকে সম্মান করি। যে যার মাতৃভাষাকে সম্মান করুক, সমস্যা নেই। কিন্তু বাংলায় কথা বললে অত্যাচার করা হবে এটা হতে পারে না।'' এই পরিপ্রেক্ষিতেই পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ''রাজ্যের শ্রমিকদের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় কারণ তারা দক্ষ, ট্যালেন্টেড। ২২ লক্ষ বাইরে কাজ করে, আর রাজ্যে দেড় কোটি মানুষ কাজ করেন।'' এইসব কথার মধ্যে দিয়ে দেশকে ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দেন তিনি।
গত কয়েক বছর ধরেই মুখ্যমন্ত্রী মহালয়ার (Mahalaya) আগে শহরের একাধিক পুজোর উদ্বোধন করে আসছেন। এবছরও তার ব্যতিক্রম হল না। শনিবার থেকে টানা চার পাঁচদিন ধরে নানা মণ্ডপে প্রদীপ জ্বালাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তবে এই নিয়ে বিতর্কও কম নেই। বিজেপি তাঁর বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্মের অপমানের অভিযোগ তোলে। কিন্তু মহালয়ার আগে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ব্যাখ্যাও দেন মমতা।
এদিন বৃষ্টি মাথায় নিয়েই হাতিবাগান সর্বজনীনের পুজো প্যান্ডেলে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিধায়ক অতীন ঘোষও। উদ্বোধনের আগেই তাঁকে বলতে শোনা যায়, 'আমি কেবল মণ্ডলের উদ্বোধন করছি। মহালয়ার আগে আমি মাতৃমূর্তি উদ্বোধন করি না। আজকে আমি প্যান্ডেল উদ্বোধন হিসেবে এসেছি।'
সূত্রের খবর, রবিবার নাকতলা উদয়ন সংঘ, ৯৫ পল্লি, যোধপুর পার্ক, বাবুবাগান এবং চেতলা অগ্রণীর উদ্বোধন করতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২২ সেপ্টেম্বর মমতা যাবেন আলিপুর সর্বজনীন, চেতলা কোলাহল গোষ্ঠী, বেহালা নতুন দল, বড়িশা, হরিদেবপুর ৪১ পল্লি, অজেয় সংহতি, বসুপুর তালবাগান, বসুপুর শীতলা মন্দির, গড়িয়াহাট হিন্দুস্থান ক্লাব ও কালীঘাট মিলন সংঘে।
২৩ সেপ্টেম্বরের তালিকা আরও দীর্ঘ। মুদিয়ালি, শিবমন্দির, সমাজসেবী, বালিগঞ্জ কালচারাল, ত্রিধারা, ৬৬ পল্লি, বডামতলা, আদি বালিগঞ্জ, একডালিয়া এবং সিংহী পার্কে উদ্বোধনে হাজির থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী।