হুগলির ভদ্রেশ্বরের তেলেনিপাড়ার ভিক্টোরিয়া জুটমিলের শ্রমিক ছিলেন ভিখারি পাসওয়ান। অক্টোবর মাসে জুটমিলের বেতন সমস্যা নিয়ে শ্রমিক আন্দোলন শুরু হয়েছিল। সেই কারণে স্বাভাবিকভাবেই ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন ছিল যাতে পরিস্থিতি হাতের বাইরে না চলে যায়। কিন্তু শ্রমিকদের বিক্ষোভ এতটাই তীব্র ছিল যে, অতিরিক্ত পুলিশ দিয়েও কিছু করতে পারেনি তৎকালীন প্রশাসন।

ছবি - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 7 February 2026 19:20
৪ ফেব্রুয়ারি। সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর (Supreme Court - SIR Hearing) সংক্রান্ত মামলায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) দেখা গেছিল 'আইনজীবী' (Lawyer Mamata Banerjee) হিসেবে। দেশের শীর্ষ আদালতে কোনও এক রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী আইনি লড়াই করছেন, এই ঘটনা এক অন্য ইতিহাস তৈরি করেছে। যদিও কালো রোব পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রথম কোনও আদালতের লড়াইয়ে যুক্ত হননি। এর আগে একাধিকবার তিনি এই ভূমিকা নিয়েছিলেন। বাংলার প্রথম সারির এক সংবাদপত্রের সাংবাদিকের (Journalist) মামলাতেও তাঁর হয়ে লড়েছিলেন মমতা।
ভিখারি পাসওয়ান মামলা (Bhikhari Paswan Case)। ৩৩ বছর আগের এই ঘটনা বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে যে দাগ কেটেছে তা আজও গাঢ়। ১৯৯৩ সালের শেষদিকে রাজ্য-রাজনীতি তোলপাড় হয়েছিল জুটমিল শ্রমিক নিখোঁজ মামলায়। মূল ঘটনার ২ বছর পর গ্রেফতার হয়েছিলেন সাংবাদিক সৌমেন দত্ত (Journalist Soumen Dutta), যিনি সেই সময় এই ঘটনার ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং করছিলেন একটি প্রথম সারির বাংলা দৈনিকের হয়ে। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল দ্য ওয়াল (The Wall News)। তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে পরে নথি চুরির অভিযোগ উঠেছিল এবং জামিনের পক্ষে সওয়াল করতেই কালো রোব পরে আদালতে হাজির হয়েছিলেন তৎকালীন কংগ্রেস সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! শেষমেশ ওই মামলায় জামিনও পেয়েছিলেন সাংবাদিক সৌমেন দত্ত।
১৯৯৩ সালে কী ঘটেছিল
হুগলির ভদ্রেশ্বরের তেলেনিপাড়ার ভিক্টোরিয়া জুটমিলের শ্রমিক ছিলেন ভিখারি পাসওয়ান (Bhikhari Paswan)। অক্টোবর মাসে জুটমিলের বেতন সমস্যা নিয়ে শ্রমিক আন্দোলন শুরু হয়েছিল। সেই কারণে স্বাভাবিকভাবেই ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন ছিল যাতে পরিস্থিতি হাতের বাইরে না চলে যায়। কিন্তু শ্রমিকদের বিক্ষোভ এতটাই তীব্র ছিল যে, অতিরিক্ত পুলিশ দিয়েও কিছু করতে পারেনি তৎকালীন প্রশাসন। আন্দোলনরতদের সঙ্গে পুলিশের সরাসরি সংঘর্ষ হয়। জুটমিল এবং শ্রমিকদের বস্তির মধ্যে একটি সরু গলিপথ ছিল। প্রাণে বাঁচতে সেই রাস্তাতেই ঢুকে পড়েছিলেন ভদ্রেশ্বর থানার এক কনস্টেবল বলরাম সিং। উত্তেজক পরিস্থিতির মধ্যেই মারা যান তিনি। অভিযোগ ওঠে, শ্রমিকরাই তাঁকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।
বলরাম সিংয়ের দেহ যে শ্রমিকের বাড়ির সামনে থেকে উদ্ধার হয়েছিল তিনি আর কেউ নন - ভিখারি পাসওয়ান (Bhikhari Paswan)। পরিবার অভিযোগ করেছিল, ওই রাতেই পুলিশ এসে তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। কিন্তু তারপর থেকে ভিখারির আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। শুধু ভিখারি নন, ওই রাতে ব্যাপক ধরপাকড়ে আরও বেশ কয়েকজন শ্রমিককে আটক করেছিল পুলিশ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে একমাত্র ভিখারিরই কোনও খোঁজ মেলেনি।
এই ঘটনায় মূল অভিযোগ উঠেছিল অ্যাডিশনাল এসপি হরমনপ্রীত সিং, এসআই সমর দত্ত এবং এএসআই স্বপন নামহাট্টার বিরুদ্ধে। ঘটনার পরে আদালতে যখন বলরাম সিং হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্ত হিসেবে সকলকে হাজির করানো হয়েছিল, সেখানেও ভিখারি পাসওয়ান না থাকায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। যদিও পুলিশদের দাবি ছিল, ভিখারিকে তাঁরা আটকই করেনি! কারণ ভিখারি এফআইআরে অভিযুক্ত ছিলই না। এরপরই ব্যাপক জলঘোলা শুরু হয় রাজ্য-রাজনীতিতে।
এই সময়ে সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে লেখালেখি করছিলেন সৌমেন দত্ত। ভিখারি পাসওয়ানের বিষয়টি তাঁর নজর কাড়ে। একেবারে নিজের উদ্যোগেই মামলার গভীরে ঢোকার চেষ্টা শুরু করেন তিনি। সেই শুরু, শেষমেশ তাঁর করা রিপোর্টের প্রেক্ষিতেই কলকাতা হাইকোর্ট ভিখারি পাসওয়ান মামলা সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কোনও মামলায় সিবিআই তদন্ত - এটাও ছিল প্রথম।
'ঢুন্ডতে রহে যাওগে'
শুধুমাত্র খবরের তাগিদে চন্দননগরে চলে গেছিলেন সৌমেন। ভিখারি পাসওয়ানের বাড়ির এলাকা, জুটমিল চত্বর ঘুরে তিনি পৌঁছে যান এসডিপিও চন্দননগরের অফিসে। সেই সময়ে এই পদে ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার (Rajeev Kumar)। সৌমেন দ্য ওয়াল-কে বলেন, ''তাবড় সাংবাদিকদের মাঝে আমি তখন কেউ নই। তবু সাহস জোগাড় করে রাজীব কুমারের থেকে এফআইআরের কপি চেয়েছিলাম। তিনি আমার থেকে কিছু বিষয় নিয়ে জানার পর স্পষ্ট বলেন, 'আমরা তো ভিখারি পাসওয়ানকে গ্রেফতার করিনি।' পরে চা খাইয়ে এফআইআরের ট্রু কপি দেন আমাকে। সেই কপির নম্বর ছিল ৯৯৯১।'' এরপরে রাজীব কুমার তাঁকে এমন একটি কথা বলেছিলেন যা সৌমেনের এখনও মনে আছে - 'ঢুন্ডতে রহে যাওগে'।
ইতিমধ্যে অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অফ ডেমোক্রেটিক রাইটস (APDR) ভিখারি পাসওয়ানের ঘটনায় তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সুহাসচন্দ্র সেন এবং অরুণ দত্তর (পরে দুজনেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হয়েছিলেন) ডিভিশন বেঞ্চে হেভিয়াস কর্পাস মামলা দায়ের করে। এপিডিআর-এর হয়ে সেই মামলার দেখভাল করছিলেন সুজাত ভদ্র। এই হেভিয়াস কর্পাস অনুযায়ী, পুলিশ যদি ভিখারিকে গ্রেফতার করে থাকে তাহলে তাঁকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জীবিত বা মৃত অবস্থায় আদালতে হাজির করাতে হবে। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই পুলিশ সেটা করতে পারেনি।
এফআইআরে সন্দেহ
পুলিশের তরফে আদালতে স্পষ্ট জানানো হয়, এফআইআরে (Bhikhari Paswan Case) ভিখারি পাসওয়ানের নাম ছিল না, তিনি এফআইআর-অভিযুক্ত নন। তাঁকে আটক করাই হয়নি তাই হাজির করানোর প্রশ্ন নেই। তবে আদালতে যে এফআইআর কপি জমা পড়েছিল তাতে দেখা গেছিল - অভিযুক্তদের তালিকার ১৯ নম্বরে কোনও নাম 'ওভাররাইট' করে নিজাম লেখা! সেই খবর পাওয়ার পরই সন্দেহ তৈরি হয় সৌমেনের।
রাজীব কুমারের থেকে পাওয়া এফআইআর কপি আবারও একবার ভাল করে পড়ে সৌমেন দেখেন, ওই কপির ১৯ নম্বর নামের জায়গা ফাঁকা! কোনও নামই লেখা নেই। দ্য ওয়াল-কে তিনি জানালেন, ''এটা দেখে আমার মাথার পোকা নড়ে গেল। আমি তারপর ভদ্রেশ্বর থানায় গিয়ে আরও একটি কপি জোগাড় করার চেষ্টা করলাম এবং চার-পাঁচ দিন কার্যত কাঠখড় পুড়িয়ে জোগাড় করলামও। তাতেই দেখি ১৯ নম্বর নামে ওভাররাইটিং। এরপর চন্দননগর আদালত থেকে আরও একটি এফআইআরের কপি বের করে যা দেখলাম তাতে স্পষ্ট হয়ে গেল যে কিছু গোলমাল আছে। কারণ সেই কপির সিরিয়াল নম্বর ছিল ৬২৫৭! সেটায় ১৯ নম্বরে স্পষ্ট করে লেখা - নিজাম, কোনও ওভাররাইটিং নেই। অর্থাৎ বুঝলাম এফআইআর কপিটাই বদলে ফেলা হয়েছে।''
ভদ্রেশ্বর থানা থেকে পাওয়া ওভাররাইটিং করা এফআইআর কপিটি রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অফ প্রিন্টিং টেকনোলজি-তে পাঠান সৌমেন। সেখান থেকে রিপোর্ট আসে, নিজামের তলায় লেখা 'ভিখারি'! এর অর্থ, পুলিশ সেদিন ভিখারি পাসওয়ানকে গ্রেফতার করেছিল! কিন্তু তারপর কী হয়েছে, কেউ জানে না।
এই রিপোর্টটি পাওয়ার পরই বুকে বল আসে সাংবাদিক সৌমেন দত্তর। তিনি সবমিলিয়ে একটি রিপোর্ট লিখে নিয়ে যান সেই প্রথমসারির ওই সংবাদপত্রের অফিসে যেখানে তিনি আগে থেকেই ফ্রিলান্স করছিলেন। অফিসের তৎকালীন এক্সিকিউটিভ এডিটর সুমন চট্টোপাধ্যায়, নিউজ এডিটর রজত রায়, মুদ্রক-প্রকাশক বিজিতকুমার বসু সৌমেনের রিপোর্টটি খতিয়ে দেখেন। পরে তাঁদের সবুজ সঙ্কেত মেলায় ওই দৈনিকই তাঁর রিপোর্টটি বিস্তারিতভাবে চারটি 'পর্ব' হিসেবে প্রকাশ করে।
সিবিআই তদন্ত এবং রিপোর্ট
সৌমেন দত্তর সেই নিউজ রিপোর্টই পরবর্তীতে তোলপাড় ফেলে রাজ্য-রাজনীতিতে। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চেও সেই রিপোর্ট পেশ করেন এপিডিআরের আইনজীবী তথা কলকাতা দক্ষিণের প্রাক্তন সাংসদ ভোলানাথ সেন আর এর ভিত্তিতেই রাজ্যের উচ্চ আদালত ভিখারি পাসওয়ান মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। পরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়, ৩০-৩১ অক্টোবর মধ্যরাতে ভিখারিকে পুলিশ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়, এইভাবে রিপোর্টের লাইন শেষ করে সিবিআই।
পুলিশের ‘সোর্স’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন ভিখারি। ফলত, ওই ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে ভিখারি বার বার দাবি করায় পুলিশের সন্দেহ হয়েছিল, পরিচিত জনকে বাঁচানোর তাগিদেই সত্য গোপন করছেন ভিখারি। শুরু হয় অত্যাচার। ভিখারিকে উল্টো করে ঝোলানো হয়। পুলিশের ধারণা ছিল, ভয়ে সব বলে দেবেন ভিখারি। কিন্তু পরিচিত পুলিশ অফিসারদের এমন আচর দেখে আরও কিছু বলেননি ভিখারি। তখনই তলপেটে চলে পর পর লাথি! সেই অত্যাচারেই মারা যান ভিখারি। সিবিআই রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, ঘটনার রাতে বাড়ি থেকেই ভিখারিকে তুলে নিয়ে গেছিল পুলিশ। সৌমেন দত্তর রিপোর্টের সঙ্গেই সেই তথ্য মিলে যায়। তবে সূত্রের খবর, ভিখারিকে চুঁচুড়ার খাদিনা মোড়ের কাছে ধরমপুর ফাঁড়িতে তুলে এনেছিল পুলিশ। বলরাম সিংকে তেলেনিপাড়ায় কারা পিটিয়ে মারে পুলিশ তাঁর কাছে বারবার জানতে চায়।
আইনজীবী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
১৯৯৫ সালে সৌমেন দত্তকেই অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার করে পুলিশ। দাবি করা হয়েছিল, তিনি শহরের একটি নামী সরকারি হাসপাতাল সংক্রান্ত কেলেঙ্কারির তথ্য প্রকাশ করতে চলেছিলেন তাই তাঁকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এমনিতেই ভিখারি পাসওয়ান মামলায় সাংবাদিক হিসেবে তিনি যে কাজ করেছিলেন তাতে পুলিশের 'ব্যাড বুক'-এ নাম উঠে গেছিল তাঁর। আর এই ঘটনায় বাম সরকরের বিরুদ্ধে বিরোধীদের লাগাতার অন্দোলন চলছিলই। আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই সৌমেনের হয়ে লড়তে তিনি কালো রোব পরে আদালতে ছুটেছিলেন।
সৌমেন দ্য ওয়াল-কে জানান, ''অফিসের বাইরে থেকেই আমাকে তুলেছিল পুলিশ। নিয়ে চলে গেছিল লর্ড সিনহা রোডের কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চের অফিসে। সেখানে রাত পর্যন্ত আমাকে ম্যারাথন জেরা করেন ওয়াচ সেকশনের অফিসার ইনচার্জ কামাক্ষ্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে আমার কাছে জানতে চাওয়া হয় ভিখারি পাসওয়ান মামলার কাগজপত্র এবং ওই সরকারি হাসপাতালের কাগজপত্র আমি কোথা থেকে পেয়েছি। রাত অবধি জেরা করার পরও জবাব না মেলায় আমাকে ওই রাতেই লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়।''
গ্রেফতারির পরের দিনই আদালতে হাজির করে সৌমেনকে ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে নেওয়া হয়। তারপরই জানাজানি হয় তাঁর গ্রেফতারির খবর। ভারতের সব বড় প্রথমসারির সংবাদপত্রেও এই ঘটনার খবর ছাপা হয়। সৌমেন যে খবরের কাগজের হয়ে সেই সময়ে লিখছিলেন, তারাও এই খবর পোস্ট এডিটরিয়ালে ছাপে। সেই সূত্রেই দিল্লিতে থাকাকালীন বিষয়টি নজরে পড়ে তৎকালীন সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ৭ দিনের পুলিশি হেফাজত শেষে যখন ১২ ডিসেম্বর সৌমেনকে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে হাজির করানো হয়, তখন তাঁর অফিসের তরফের আইনজীবীদের পাশাপাশি আদালতে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আইনজীবী পরিচয়েই।
স্মৃতিচারণ করে সৌমেন এও বলেন, ''ব্যাঙ্কশাল কোর্টে আমাকে হাজির করানো হয়েছিল। সেখানেই কালো কোট পরে আইনজীবী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিচারক রবীন্দ্রনাথ কালি (যিনি ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়ের ফাঁসির নির্দেশ দিয়েছিলেন) জানতে চেয়েছিলেন, তিনি আইনজীবী কি না, মমতা জানিয়েছিলেন তাঁর কাছে ডিগ্রি রয়েছে। আমি ওই দিন সন্ধেতেই জামিন পাই।'' পরবর্তীতে সৌমেন দত্ত সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে দীর্ঘ ১৭ বছর কর্মরত ছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই সময় আদালতে কালো গাউন পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি ছিল প্রতীকী। সাংবাদিকের মুক্তির চেয়েও বড় কথা, তা ছিল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান। পরবর্তী সময়ে রাজ্য রাজনীতিতে মমতার যে লড়াকু ও প্রতিবাদী চরিত্র প্রতিষ্ঠিত হয়, এই ঘটনাকে তারই এক গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাভাস বলে মনে করেন অনেকে।