সিইও (CEO) অফিসের সামনে বামেদের বিক্ষোভের পর এবার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে নির্বাচন কমিশনের ‘এসআইআর’ (SIR) এবং ভোটার তালিকা বিভ্রাটের প্রতিবাদে সরব হলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee Dharna)।

মমতার ধর্নামঞ্চে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 6 March 2026 16:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিইও (CEO) অফিসের সামনে বামেদের বিক্ষোভের পর এবার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে নির্বাচন কমিশনের ‘এসআইআর’ (SIR) এবং ভোটার তালিকা বিভ্রাটের প্রতিবাদে সরব হলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee Dharna)। আর সেই মঞ্চ থেকেই কেন্দ্রকে বিঁধে তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee TMC) সাফ জানিয়ে দিলেন, “যতদিন তিনি (মমতা) বেঁচে আছেন, ততদিন তিনিই সেরা মুখ্যমন্ত্রী। মমতা আর গণতন্ত্র আজ সমার্থক।”
ব্রিটিশ রাজের সঙ্গে তুলনা
কল্যাণের নিশানায় ছিল মূলত দিল্লির ‘এসআইআর’ (SIR) পরিকল্পনা। একে ‘অপরিকল্পিত’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে দাগিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “সারা বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে আজ অশান্তির সুর। আমরা একসময় ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলাম মৌলিক অধিকার আর স্বাধীনতার জন্য। আজ এই লড়াইটাও ঠিক এক— গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াই।” তাঁর অভিযোগ, এই তালিকায় ষাট লক্ষ মানুষের নাম বাদ দিয়ে তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
শুভেন্দু ও অভিষেক প্রসঙ্গ
শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) বিঁধে কল্যাণ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাঁকে রাজনীতি শিখিয়েছিলেন, তিনি আজ বড় বড় কথা বলছেন। অথচ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) হাঁটুর কাছে আসার যোগ্যতাও তাঁর নেই।” একই সঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, যে বা যারা নারীকে অপমান করে, তাঁদের পতন নিশ্চিত।
কমিশনের ভূমিকা ও বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা
নির্বাচন কমিশনের (ECI) সমালোচনা করে কল্যাণ বলেন, “কমিশনের অপদার্থতার কারণেই আজ ইতিহাসে প্রথমবার সুপ্রিম কোর্টকে (Supreme Court) হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে এবং জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করতে হয়েছে। সাধারণ মানুষ আজ বিভ্রান্ত, কেউ কেউ আত্মঘাতীও হচ্ছেন কেন তাঁদের নাম বাদ গেল সেই চিন্তায়।” তিনি জুডিশিয়াল অফিসারদের কাছে আর্জি জানান যাতে নিরপেক্ষভাবে এবং দ্রুততার সঙ্গে এই ৬০ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হয়।
‘মোদী-শাহ সাময়িক, মমতাই স্থায়ী’
সাংসদের দাবি, মোদী, অমিত শাহ বা নির্বাচন কমিশন— যারাই আজ জনবিরোধী কাজ করছে, জনগণ তাদের বিচার করবেই। তাঁর কথায়, “বিজেপি বা মোদীরা আসবে-যাবে, ওটা সাময়িক। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্থায়ী। তিনি সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা।”