রাজনীতি ও সমাজে ভাষার অবক্ষয় নিয়ে সরব সরস্বতী ভাণ্ডার। কলকাতায় আলোচনা সভায় উঠল ভাষা সন্ত্রাসের প্রসঙ্গ।

শেষ আপডেট: 29 December 2025 14:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা ভাষা (Bengali Language) কি শুধুই আবেগের বিষয়, না কি সমাজ ও রাজনীতির ভিত গড়ে দেওয়ার এক অপরিহার্য শক্তি—এই প্রশ্নই যেন ক্রমশ আরও তীব্র হয়ে উঠছে বর্তমান সময়ে। রাজনৈতিক বক্তব্য, প্রশাসনিক ভাষা, এমনকি দৈনন্দিন কথোপকথনেও ভাষার শালীনতা ও মানবিকতার অবক্ষয় ক্রমশ চোখে পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটেই বাংলা ভাষাকে বাঁচানোর, তাকে মর্যাদার জায়গায় ফেরানোর প্রয়াসে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে ‘সরস্বতী ভাণ্ডার’(Saraswati Bhandar) ।
যেখানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) আর্থিক নিরাপত্তার বার্তা দিয়েছেন বহু মানুষের জীবনে, সেখানে সরস্বতী ভাণ্ডার মনে করিয়ে দিচ্ছে—মানুষের কণ্ঠে, চিন্তায় ও চেতনায় ভাষার সুরক্ষা সমান জরুরি। এই ভাবনা থেকেই ভোটের মরশুমে ‘সরস্বতী ভাণ্ডার’-এর (Saraswati Bhandar) পথচলা শুরু হয়েছিল।
সংগঠনের অন্যতম কর্ণধার ঝর্ণা ভট্টাচার্য্যের মতে, “দিন দিন ভাষা সন্ত্রাস বাড়ছে। তার সঙ্গে বাড়ছে মানসিক ক্ষত, ঔদ্ধত্য আর অবজ্ঞা। আমরা চাই না এই সময়টা ভাষা সন্ত্রাসের যুগ হিসেবে ইতিহাসে থেকে যাক। পরিবার, রাজনীতি (Politics), প্রশাসন থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা জরুরি। সংবাদমাধ্যমের ভূমিকাও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বছরের শেষ প্রান্তে, ২৮ ডিসেম্বর, কলকাতার এমপি বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সভাঘরে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভার আয়োজন করে সরস্বতী ভাণ্ডার (Saraswati Bhandar)। বছরের যাবতীয় গ্লানি, কু-শব্দ ও কু-কথার ভার ঝেড়ে ফেলে মানবিকতা ও শালীনতায় ভর করে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর বার্তাই ছিল এই সভার মূল সুর।
আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ভাষার প্রভাব—শুধু ব্যক্তিমানসে নয়, শরীর, পরিবার, সমাজ, রাজনীতি এবং আগামী প্রজন্মের উপর ভাষা কীভাবে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে, সেই দিকগুলি বিশদে উঠে আসে। বক্তারা তুলে ধরেন, লাগামছাড়া শব্দদূষণ ও রাজনৈতিক চাটুকারিতার সংস্কৃতি কীভাবে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক ভারসাম্যকে বিপন্ন করে তুলছে।
এই আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন সাহিত্য, আইন, রাজনীতি ও সাংবাদিকতার জগতের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। আলোচনায় অংশ নেন ড. ঋতব্রত ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট আইনজীবী সৌরভ সাহা চৌধুরী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব প্রীতম দত্ত, কবি ও সাংবাদিক সৈয়দ হাসমত জালাল, নিধি অ্যাসোসিয়েটস-এর কর্ণধার আবিরলাল বিশ্বাস সহ আরও বহু বুদ্ধিজীবী ও সমাজচিন্তক।
সব মিলিয়ে, সরস্বতী ভাণ্ডারের এই উদ্যোগ যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল—ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, ভাষাই সংস্কৃতি, ভাষাই রাজনীতি, ভাষাই ভবিষ্যৎ। বাংলা ভাষাকে বাঁচাতে হলে সচেতনতা শুরু করতে হবে আজই, এখনই।