ব্যস্ত শহরে মাঝে মধ্যে এমন অবস্থা হয় যে কেউ কারও দিকে ফিরে তাকান না। বাসে, ট্রেনে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে কীভাবে সুস্থ করা যাবে বা হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া যাবে, সেই চিন্তা থাকে। কিন্তু সম্প্রতি যে ঘটনা ঘটেছে তা স্পষ্টত বুঝিয়ে দেবে যে, মানবিকতা আজও আছে।

ওসি সৌভিক চক্রবর্তী
শেষ আপডেট: 1 September 2025 17:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলিশের (Kolkata Police) কাজ যে শুধু যান নিয়ন্ত্রণ নয়, নাগরিক জীবনের সুরক্ষা দেওয়াও, সেটাই আরও একবার ধরা পড়ল এই ঘটনায়। চলন্ত বাসে (Bus) অসুস্থ হয়ে পড়া এক বৃদ্ধাকে (Old Woman) সময় মতো হাসপাতালে (Hospital) ভর্তি করা গেল পুলিশি তৎপরতায়। এই কারণেই বলা যায়, কার্যত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসতে পেরেছেন ওই মহিলা।
ব্যস্ত শহরে মাঝে মধ্যে এমন অবস্থা হয় যে কেউ কারও দিকে ফিরে তাকান না। বাসে, ট্রেনে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে কীভাবে সুস্থ করা যাবে বা হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া যাবে, সেই চিন্তা থাকে। কিন্তু সম্প্রতি যে ঘটনা ঘটেছে তা স্পষ্টত বুঝিয়ে দেবে যে, মানবিকতা আজও আছে।
ঠিক কী ঘটেছে
শনিবার বেলা প্রায় সাড়ে ১১টা নাগাদ এম.জি. রোডে টহলদারিতে ছিলেন হাওড়া ব্রিজ ট্রাফিক গার্ডের ওসি সৌভিক চক্রবর্তী। ঠিক সেই সময় ১৬৮ নম্বর (নাগেরবাজার–হাওড়া) রুটের এক কন্ডাক্টর তাঁকে জানান, বাসের মধ্যে এক বৃদ্ধা যাত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
জানা যায়, ৭০ বছরের দীপিকা আচার্য নামে ওই মহিলা অচেতন অবস্থায় ছিলেন, শরীরের একদিক প্যারালাইসড হয়ে গিয়েছিল এবং কথা বলার ক্ষমতাও হারিয়েছিলেন। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেন ওসি। দ্রুত তাঁকে বাস থেকে নামিয়ে ট্যাক্সি করে স্থানীয় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান তিনি। বৃদ্ধাকে সাহায্যের জন্য পাঠানো হয় সার্জেন্ট সন্তু পাল ও এক মহিলা হোমগার্ডকেও।
অবিলম্বে এম.জি. রোড থেকে মেডিক্যাল কলেজ পর্যন্ত ‘গ্রিন করিডর’ তৈরি করে ট্রাফিক পুলিশ, যাতে দেরি না হয়। আগাম খবর দেওয়া হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও। সময় মতো পৌঁছনোর পর চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। বর্তমানে দীপিকা দেবী সিপিআর–৩ ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন এবং স্থিতিশীল অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীর আত্মীয়রা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন পুলিশ অফিসার সৌভিক ও তাঁর সহকর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপের জন্য। তাঁদের তৎপরতা এবং দায়িত্ববোধই বাঁচিয়েছে ওই বৃদ্ধার প্রাণ।