Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

অক্টোবরে ধেয়ে আসছে 'মান্থা'! ২৮৮ বছর আগে এই মাসেই কলকাতা দেখেছিল প্রথম 'প্রাণঘাতী' ঘূর্ণিঝড়

ঘূর্ণিঝড়ের পর ধ্বংসস্তূপের উপর থেকেই নতুন করে গড়ে তোলা হয় কলকাতা শহর। সেই সময়ের আর্থিক ক্ষতির নির্দিষ্ট হিসেব না থাকলেও, ঐতিহাসিকরা মনে করেন ক্ষয়ক্ষতি ছিল বিপুল।

অক্টোবরে ধেয়ে আসছে 'মান্থা'! ২৮৮ বছর আগে এই মাসেই কলকাতা দেখেছিল প্রথম 'প্রাণঘাতী' ঘূর্ণিঝড়

গ্রাফিক্স- দিব্যেন্দু দাস (ছবি- সংগৃহীত)

অর্পিতা দাশগুপ্ত

শেষ আপডেট: 27 October 2025 00:12

অর্পিতা দাশগুপ্ত

আবারও দিগন্তে ঘনিয়ে আসছে নতুন ঘূর্ণিঝড়- ‘মান্থা’ (Cyclone Mantha)। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে উপকূলজুড়ে ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ জল ও নিম্নচাপের ঘূর্ণনের ফলে প্রতি বছরই একের পর এক শক্তিশালী ঝড়ের সৃষ্টি হচ্ছে।

কিন্তু জানেন কি, এই কলকাতাই (Kolkata Cyclone) একসময় দেখেছিল ইতিহাসের এক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়? তখন না ছিল আবহাওয়া দফতর, না ছিল সতর্কবার্তা। প্রায় তিনশো বছর আগে, ১৭৩৭ সালের অক্টোবরে এমনই এক প্রলয় নেমে এসেছিল হুগলি নদীর মোহনায়। সেই ঝড়ে ভেসে গিয়েছিল তৎকালীন ‘ক্যালকাটা’র অর্ধেকটা শহর, আর প্রাণ হারিয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ।

কলকাতার প্রথম ঘূর্ণিঝড়: ১৭৩৭ সালের মহাপ্রলয়

১৭৩৭ সালের ১১ অক্টোবর কলকাতায় আঘাত হানে এক ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় (Cyclone's History), যা ইতিহাসে প্রথম 'সুপার সাইক্লোন' (India's First Super Cyclone) হিসেবে ধরা হয়। এই ঝড়টি বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্ব দিক থেকে তৈরি হয়ে কলকাতার দক্ষিণে গঙ্গার মোহনায় আছড়ে পড়ে। বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘূর্ণিঝড়টি মায়ানমারের উপকূল থেকে তৈরি হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে আসে। তখন প্রযুক্তি না থাকায় আগাম সতর্কতা জারি করা সম্ভব হয়নি। ফলে মানুষ প্রস্তুত ছিল না, আর সেই কারণেই ক্ষতি হয়েছিল ভয়াবহ।

প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি

তৎকালীন সরকারি নথি ও বিভিন্ন বিদেশি প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ঘূর্ণিঝড়ে (Super Cyclone) প্রায় ৩ হাজার মানুষ মারা যান। তবে কিছু ইউরোপীয় নথিতে সংখ্যাটি ৩ লক্ষ বলা হয়েছে, যা অনেকের মতে  এটি অতিরঞ্জিত। কারণ তখন কলকাতার জনসংখ্যা ছিল মাত্র ২০ হাজারের মতো। ঝড়ের সময় গঙ্গায় ১০ থেকে ১৩ মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস তৈরি হয়। এতে নদীর ঘাট ও আশপাশের গ্রামগুলো তলিয়ে যায়। অসংখ্য নৌকা ডুবে যায়, শহরের কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে।

ঘূর্ণিঝড়ের পর ধ্বংসস্তূপের উপর থেকেই নতুন করে গড়ে তোলা হয় কলকাতা শহর। সেই সময়ের আর্থিক ক্ষতির নির্দিষ্ট হিসেব না থাকলেও, ঐতিহাসিকরা মনে করেন ক্ষয়ক্ষতি ছিল বিপুল।

এই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার পর থেকেই প্রশাসন বুঝতে পারে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির গুরুত্ব। পরবর্তীকালে ১৮৬৪ সালে কলকাতা বন্দরে প্রথম ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা ব্যবস্থা চালু হয়, যা ধীরে ধীরে সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে।

১৭৩৭ সালের সেই ঝড় কলকাতার ইতিহাসে চিরস্মরণীয়। আজ যখন ‘মান্থা’ ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা ঘনাচ্ছে, তখন সেই প্রথম প্রলয়ের স্মৃতি যেন নতুন করে সতর্কতার বার্তা দেয়- প্রকৃতির সামনে মানুষ এখনও কতটা অসহায়।

(তথ্য সংগৃহীত)


```