দীপাবলি ও বড়দিনের আগে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো রুখতে বড় পদক্ষেপ করল কলকাতা পুলিশ। শহরজুড়ে মোতায়েন হচ্ছে অত্যাধুনিক ব্রেথ অ্যানালাইজার, যা মুহূর্তে ধরবে চালকের রক্তে মদের পরিমাণ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 16 October 2025 17:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো রুখতে আরও কড়া হচ্ছে কলকাতা পুলিশ। শহরজুড়ে ৫০টি আধুনিক ব্রেথ অ্যানালাইজার বা শ্বাস-পরীক্ষক যন্ত্র মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, এই উন্নত মানের যন্ত্রগুলি রাস্তায় মদ্যপ অবস্থায় যে পরীক্ষা হয় তাকে আরও কার্যকর এবং ‘ট্যাম্পার-প্রুফ’ বা বিকৃতি-অযোগ্য করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই নতুন ব্যবস্থার চালু হচ্ছে দীপাবলির ঠিক আগে। সামনে কালীপুজো, বড়দিন, নিউ ইয়ার, উৎসবের মরশুমে শহরে বেড়ে যায় রাতজাগা অনুষ্ঠান, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঘটনা এবং দুর্ঘটনার সম্ভাবনা। তাই আগাম প্রস্তুতি নিতে চায় লালবাজার।
পুলিশ সূত্রে খবর, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ‘নাকা চেকিং’-এর সময় এই নতুন যন্ত্র ব্যবহার করবেন ট্র্যাফিক কর্মীরা। এক সিনিয়র পুলিশ অফিসার বলেন, ‘পূর্বের ব্রেথ অ্যানালাইজারগুলির তুলনায় নতুন মডেলগুলিতে একাধিক আধুনিক সুবিধা রয়েছে। এতে অন্তর্নির্মিত মেমরি রয়েছে, যা ১০ হাজার পর্যন্ত টেস্ট রেকর্ড সংরক্ষণ করতে পারে।’
প্রতিটি পরীক্ষার নথিতে থাকবে তারিখ, সময়, গাড়ির নম্বর, অফিসারের নাম ও অ্যালকোহলের মাত্রা, সব কিছুই পাসওয়ার্ড প্রটেকশন-সহ সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষিত রাখা যাবে। এমনকি অফিসাররা ডিজিটালি সইও করতে পারবেন টাচস্ক্রিনে। ফলে ভবিষ্যতে কোনও আইনি জটিলতা হলে বা অভিযুক্ত ড্রাইভার অভিযোগ অস্বীকার করলে, প্রমাণ থাকবে ডিজিটাল আকারে।
‘আগে অনেক সময় মদ্যপ চালকরা পরে এসে অস্বীকার করতেন। এই যন্ত্রগুলির মাধ্যমে এখন আর সেই সুযোগ থাকবে না,’ বলেন ওই আইপিএস অফিসার। ‘সব তথ্য ডিজিটালি রেকর্ড হবে, বিকৃত করা যাবে না।’
নতুন যন্ত্রগুলি ছোট ও হালকা, ওজন মাত্র ৩০০ গ্রামেরও কম। ৩.২ ইঞ্চির এলসিডি স্ক্রিন ও অত্যাধুনিক সেন্সর রয়েছে। অল্প শ্বাসেই সঠিক ফল পাওয়া যাবে, মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যে স্ক্রিনে দেখা যাবে ফলাফল। এর ফলে ট্র্যাফিক পুলিশ ঘটনাস্থলেই দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
জানা গিয়েছে, প্রায় ২২ লক্ষ টাকা দিয়ে এই নতুন ব্রেথ অ্যানালাইজারগুলি কেনা হয়েছে। শহরের ২৬টি ট্র্যাফিক গার্ডে এই যন্ত্রগুলি ভাগ করে দেওয়া হবে। যদিও বেশিরভাগ ট্র্যাফিক ইউনিটের কাছেই আগে থেকেই কিছু ব্রেথ অ্যানালাইজার রয়েছে, কিন্তু অনেকগুলি পুরনো বা অপ্রচলিত মডেল। নতুন যন্ত্রগুলি অনেক বেশি নির্ভুল ও নিরাপদ।
দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে নববর্ষ পর্যন্ত চলা উৎসবের সময়ে কলকাতার রাস্তায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ। আধুনিক প্রযুক্তি আর কঠোর নজরদারির যুগলবন্দিতেই শহরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় লালবাজার।