রেলমন্ত্রকের হিসেব বলছে, মোট ৫২ কিলোমিটারের কাজ চলছে কলকাতায়। কিন্তু তার মধ্যে প্রায় ২০ কিলোমিটারই জমিজট আর ইউটিলিটি ডাইভারশনের মতো সমস্যায় কার্যত স্তব্ধ।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 4 December 2025 17:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা (Kolkata) ও শহরতলির চারটি বড় মেট্রো প্রকল্পের কাজে (Kolkata Metro) কেন এতো দেরি? লোকসভায় বুধবার বিস্তারে জানালেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Railway Minister)। তাঁর সাফ অভিযোগ, “জমি অধিগ্রহণে জটিলতা (Land Dispute,) আর রাজ্যের ইউটিলিটি না সরানো— এই দু’টি কারণেই আটকে আছে কলকাতার মেট্রো বিস্তার।”
রেলমন্ত্রকের হিসেব বলছে, মোট ৫২ কিলোমিটারের কাজ চলছে কলকাতায়। কিন্তু তার মধ্যে প্রায় ২০ কিলোমিটারই জমিজট আর ইউটিলিটি ডাইভারশনের মতো সমস্যায় কার্যত স্তব্ধ।
২০১৪ সালের আগে কলকাতা মেট্রোর দৈর্ঘ্য ছিল ২৮ কিলোমিটার, গত ১১ বছরে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৫ কিলোমিটার। পাশাপাশি গত তিন বছরে মোট ৯৭টি রেল সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান রেলমন্ত্রী।
কোন প্রকল্প কতটা আটকে? লোকসভায় রেলমন্ত্রীর খতিয়ান
▪ জোকা–এসপ্ল্যানেড: জোকা–মাঝেরহাট ৭.৭৪ কিমি পথ তৈরি। কিন্তু মাঝেরহাট–এসপ্ল্যানেড ৬.২৬ কিমি এখনও আটকে জমিজট আর ইউটিলিটি ডাইভারশনের সমস্যায়।
▪ নিউ গড়িয়া–দমদম বিমানবন্দর লাইন: বেলেঘাটা–এয়ারপোর্ট ২২ কিমি অংশের কাজ ঢিমেতালে। ট্রাফিক ডাইভারশনের অনুমতি মিলছে না বলেই দাবি রেলের।
▪ নোয়াপাড়া–বারাসত: বিমানবন্দর থেকে মাইকেল নগর— পুরো অংশেই জমি সমস্যার কারণেই থমকে কাজ।
▪ বরানগর–ব্যারাকপুর (১২.৫ কিমি): এখানে রাজ্য সরকারের জল পাইপলাইন সরাতে বিলম্ব হওয়ায় কাজ কার্যত স্তব্ধ।
দুর্গাপুজোয় কত ট্রেন? তৃণমূল সাংসদ মালা রায়ের প্রশ্নে রেলমন্ত্রী জানান, ১ অক্টোবর থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৫— এই দুই মাসে ভারতীয় রেল চালিয়েছে ১২,৩০০-রও বেশি বিশেষ ট্রেন। ২০২৪ সালে ছিল ৭,৯৯০টি। অর্থাৎ, এ বছর প্রায় ৪,০০০ বিশেষ ট্রেন বেশি চলেছে।
রেলমন্ত্রী জানান, শহরজুড়ে মেট্রোর বিস্তার যেমন বেড়েছে, তেমনই জোরদার হচ্ছে নিরাপত্তা। এবার সেই ব্যবস্থায় যুক্ত হতে চলেছে এআই-চালিত নজরদারি সফটওয়্যার। নয়া প্রযুক্তির দৌলতে সন্দেহজনক গতিবিধি, অনধিকার প্রবেশ, অযথা ঘোরাঘুরি, ক্যামেরা ট্যাম্পারিং, নির্দিষ্ট রঙ শনাক্ত, কাউকে পড়ে গেলে তা চিহ্নিত করা অর্থাৎ সবকিছু মুহূর্তে করতে পারবে এই প্রযুক্তি। এর ফলে মেট্রোর নিরাপত্তা আরও নির্ভুল, সতর্ক ও আধুনিক হবে বলেই আশা কর্তৃপক্ষের।