বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনওরকম মানহানিকর বা অবমাননাকর মন্তব্য করা যাবে না।

রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 27 February 2026 14:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rujira Banerjee) ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সামাজিক সম্মান রক্ষার্থে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনওরকম মানহানিকর বা অবমাননাকর মন্তব্য করা যাবে না। পাশাপাশি, অকারণে তাঁর নাম জড়িয়ে সংবাদমাধ্যমে কোনও ধরনের প্রচার বা চর্চাও করা চলবে না।
মামলার প্রেক্ষাপট
একটি রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হওয়ার সুবাদে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সংবাদমাধ্যমের একাংশ রুজিরার নাম জড়িয়ে ইচ্ছামতো প্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। এই ধরনের অযাচিত প্রচার তাঁর ব্যক্তিগত জীবন এবং সামাজিক সম্মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে দাবি করে আদালতের (Kolkata High Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন রুজিরা। তাঁর আইনজীবী সওয়াল করেন, রাজনৈতিক স্বার্থে একজন সাধারণ নাগরিকের নাম বারবার জড়িয়ে অসম্মান করা হচ্ছে।
হাইকোর্টের কড়া নজরদারি
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি কৃষ্ণা রাও (Justice Krishna Rao) রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছেন। আদালত স্পষ্ট করেছে, ভিত্তিহীন বা অসম্মানজনক মন্তব্যের মাধ্যমে কারো চরিত্রহনন বরদাস্ত করা হবে না। এই নির্দেশ আগামী ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ওই দিনই মামলার পরবর্তী বিস্তারিত শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
তাৎপর্য ও স্বস্তি
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার সুরক্ষিত করতেই আদালতের (Kolkata High Court News) এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্দেশের ফলে রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায় আপাতত বড়সড় স্বস্তি পেলেন বলে মনে করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম এবং রাজনৈতিক মহলকে এখন এই নির্দেশ মেনে সতর্কভাবে চলতে হবে।
প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তলব করেছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে (Rujira Banerjee)। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতেও দেখা যায়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরের তরফে ধারাবাহিকভাবে নানা মন্তব্য করা হয়। সেই প্রেক্ষিতেই মানহানির অভিযোগ তুলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।