পঞ্চমীতেই ভিড়ে উপচে পড়ল কলকাতা। উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম, সব পুজো মণ্ডপেই জনপ্লাবন। বৃষ্টি-রোদ উপেক্ষা করে চলল প্যান্ডেল হপিং।

ছবি - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 28 September 2025 09:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চতুর্থীর আভাস মিথ্যে হল না, পঞ্চমীতে বিকেল থেকে রাত, কলকাতা ভাসল জনপ্লাবনে। বৃষ্টি আর রোদ দু’য়ের খামখেয়ালিপনা উপেক্ষা করেই ভিড় সকাল থেকে উপচে পড়তে থাকে শহরের বিখ্যাত পুজো মণ্ডপগুলোয়।
সকালের সূর্য আর হঠাৎ ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি, শরতের এই মিলমিশ রূপ দেখতে ভিড় জমেছিল উত্তর থেকে দক্ষিণ, মধ্য ও পূর্ব কলকাতার প্রতিটি কোণে। দক্ষিণে ত্রিধারা, বালিগঞ্জ কালচারাল, দেশপ্রিয় পার্কে যখন লোক থিকথিক করছে, তখন উত্তরে হাতিবাগান, কলেজ স্কোয়ার, আহিরীটোলা, কাশী বোস লেন, টালা, সব জায়গাতেই হাঁটার জায়গাটুকু ছিল না। লেকটাউনের শ্রীভূমি স্পোর্টিং দেখার জন্য একটা আস্ত দিন বরাদ্দ করেছিলেন কত লোক।
সকালে শুরু হওয়া উৎকণ্ঠা বিকেলে আরও তীব্র রূপ নেয়। কলেজ স্কোয়ার ও আহিরীটোলায় মাতাল ভিড়, দক্ষিণে গড়িয়াহাটের দিকে নেমে চলা মানুষের ঢল। বেহালার দাস পরিবার পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে গড়িয়াহাট, তারপর কসবা ঘুরে বেহালা, হরিদেবপুরের পুজো দেখা সারেন। গড়িয়াহাট ব্রিজে থাকা পুলিশের নির্দেশে অনেকেই সাময়িকভাবে রুট বদল করেন, এক পুলিশকর্মী জানিয়েছিলেন, ওই দিকে গেলে 'একডালিয়া' মিলবে। তবে গড়িয়াহাট থেকে রাসবিহারীর দিকে বাস চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাপ হয় অনেকেরই।
দু’দিন আগের ভয়াবহ বৃষ্টিতে শহরের অনেক রাস্তায় এখনও জলমগ্ন, রাস্তা দুপাশে পড়ে ব্যানার ছেঁড়া ও হোর্ডিংয়ের অংশ। সেসব পায়ের তলায় রেখেই উৎসবে মাতেন সকলে। দুপুরে ফুচকা, চাউমিন, রোল আর বিরিয়ানির গন্ধ মণ্ডপের প্রবেশপথকে আরও উৎসবমুখর করে তোলে। রাতের চিত্রটাও একই। রেস্তরাঁর বাইরে লম্বা লাইন, ক্যাফেতে পা রাখার জায়গা নেই। গড়িয়াহাটের একটি ফুড জয়েন্টে দাঁড়িয়ে লেকটাউনের পবিত্র দাস বললেন, 'রাস্তায় খাওয়ার মজাই আলাদা এই সময়ে।'
বৃষ্টির তীব্রতা এদিন কম থাকলেও রোদ আর গরম ছিল মারাত্মক। তবু মানুষ থেমে থাকেনি। অনেক মণ্ডপেই বোধন সম্পন্ন হয়েছে ততক্ষণে কারণ ষষ্ঠী পড়ে গেছিল শনিবার রাতেই। কিছু মণ্ডপে পুজোর সে ছবিও ধরা পড়ে।