আয়োজকদের মতে, এবছর বইমেলায় অংশগ্রহণকারী সংস্থা ও প্রকাশকের সংখ্যা ১,০০০ ছাড়িয়েছে। সরাসরি ও যৌথভাবে অংশ নিচ্ছে প্রায় ২০টি দেশ। প্রতিদিন থাকছে ‘বই কিনুন, লাইব্রেরি জিতুন’ লটারি - ভাগ্যবান বিজেতারা পাবেন বুক গিফট কুপন।

কলকাতা বইমেলা উপলক্ষে সাংবাদিক বৈঠক
শেষ আপডেট: 12 January 2026 20:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর মাত্র ১০ দিনের অপেক্ষা। আগামী ২২ জানুয়ারি, বিকেল ৪টেয় উদ্বোধন হতে চলেছে ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা (Kolkata International Bookfair 2026)। বইমেলা চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সম্মাননীয় অতিথিদের পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, গুণিজন এবং মন্ত্রীবর্গ।
এবছর বইমেলার ফোকাল থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনা (Argentina)। আর্জেন্টিনার বিশিষ্ট সাহিত্যিক গুস্তাভো কানসোত্রে এবং ভারতে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো কাউসিনো থাকবেন থিম-কেন্দ্রিক আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত।
আয়োজকদের মতে, এবছর বইমেলায় অংশগ্রহণকারী সংস্থা ও প্রকাশকের সংখ্যা ১,০০০ ছাড়িয়েছে। সরাসরি ও যৌথভাবে অংশ নিচ্ছে প্রায় ২০টি দেশ। প্রতিদিন থাকছে ‘বই কিনুন, লাইব্রেরি জিতুন’ লটারি - ভাগ্যবান বিজেতারা পাবেন বুক গিফট কুপন।
বইমেলার বিশেষ দিনগুলির মধ্যে রয়েছে - ৩০ জানুয়ারি ‘চিরতরুণ’ সিনিয়র সিটিজেন দিবস এবং ১ ফেব্রুয়ারি শিশু দিবস। এবছর মোট ৯টি তোরণ থাকছে। তার মধ্যে দুটি নির্মিত হচ্ছে আর্জেন্টিনার স্থাপত্যরীতিতে। প্রয়াত সাহিত্যিক প্রফুল্ল রায় ও প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের নামে দুটি তোরণ করা হচ্ছে। সাহিত্যিক শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে থাকছে তাঁর নামে নামাঙ্কিত তোরণ।
লিটিল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়নের নামকরণ হচ্ছে কবি রাহুল পুরকায়স্থের নামে। শিল্পী ময়ুখ চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে শিশু মণ্ডপ উৎসর্গ করা হচ্ছে তাঁর নামে। ভূপেন হাজারিকা ও সলিল চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ যথাক্রমে ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি আলোচনা ও সঙ্গীতানুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপিত হবে।
বইমেলার অন্যতম আকর্ষণ কলকাতা লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল (KLF) অনুষ্ঠিত হবে ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি ২০২৬। ফেস্টিভ্যালের কিউরেটর মালবিকা বন্দ্যোপাধ্যায় এবছরের কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরবেন।
যাতায়াতের ক্ষেত্রেও থাকছে বড় সুবিধা। এবছর প্রথমবার বইমেলা প্রাঙ্গণে মেট্রো রেলে হাওড়া থেকে এসপ্ল্যানেড হয়ে সরাসরি পৌঁছনো যাবে। মেলার দিনগুলিতে মেট্রোর সংখ্যা বাড়ানো হবে, পরিষেবা চলবে রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত, এমনকী ছুটির দিনেও। বইমেলা প্রাঙ্গণে মেট্রোর বিশেষ বুথ থেকে UPI-এর মাধ্যমে সরাসরি টিকিট কাটার সুবিধাও থাকছে। গেট ১ ও ২-এর মাঝখানে এই কাউন্টার থাকবে।
বইমেলার নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো নিয়েও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি স্টল ও পুরো মেলা প্রাঙ্গণ বিমার আওতায় আনা হয়েছে। সরস্বতী পুজো থেকে প্রজাতন্ত্র দিবস পর্যন্ত টানা ছুটি থাকায় এবছর বইমেলায় বিপুল ভিড় হবে বলেই আশা আয়োজকদের।
বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে বইমেলা কমিটির তরফে ত্রিদিব কুমার চট্টোপাধ্যায় জানান, ১৯৯৬ সাল থেকে বাংলাদেশ নিয়মিত অংশ নিলেও ২০২৫ ও ২০২৬ সালে তারা অংশ নেয়নি। বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, জায়গার সীমাবদ্ধতার কারণেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।