আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, সোম ও মঙ্গলবার মিলিয়ে শহরে ৩০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। সোমবার রাতের কয়েক ঘণ্টা ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 25 September 2025 15:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টি (Record Rainfall) হয়েছে কলকাতায় (Kolkata)। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত টানা বর্ষণে কার্যত জলের তলায় চলে গেছিল শহর (Waterlogged)। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৯ জনের মৃত্যুও হয়েছে। এমন জল জমেছিল যা দেখে খোদ মুখ্যমন্ত্রী, মেয়রও তাজ্জব হয়ে যান। যদিও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। তবে কলকাতার বেশ কিছু এলাকায় এখনও জলমগ্ন।
বুধবার থেকেই স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছিল কলকাতা। বৃহস্পতিবার সকালে দেখা গেছে, শহরের বেশিরভাগ রাস্তাই জলমুক্ত। তবে কলকাতা পুরসভা (KMC) বলছে, কলকাতা সংলগ্ন কিছু এলাকায় এখনও জল জমে রয়েছে।
পুরসভার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আমহার্স্ট স্ট্রিট, সুকিয়া স্ট্রিট, ঠনঠনিয়ার মতো এলাকা ইতিমধ্যেই স্বাভাবিক হয়েছে। তবে ইএম বাইপাস লাগোয়া এলাকা, জোকা, সরশুনার কিছু অংশ ও মেটিয়াবুরুজের একাংশে এখনও জলের তলায়। কিন্তু আশ্বাস মিলেছে, আরও বেশ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেখানকার পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, সোম ও মঙ্গলবার মিলিয়ে শহরে ৩০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। সোমবার রাতের কয়েক ঘণ্টা ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। মঙ্গলবার দুপুরের পর ভারী বৃষ্টি থামতেই অনেক জায়গা থেকে জল নামতে শুরু করে। কিন্তু বুধবার পর্যন্ত বালিগঞ্জ, পার্কসার্কাস, তপসিয়া, ঠনঠনিয়া, কেশবচন্দ্র সেন স্ট্রিট ও শেক্সপিয়র সরণির মতো এলাকায় জল জমে ছিল।
বৃহস্পতিবারের ছবিটা অনেকটাই বদলে গেছে। এদিন সকাল থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় জলযন্ত্রণা বাড়েনি মানুষের। যে সব জায়গায় জল জমে রয়েছে তা ধীরে ধীরে নামছেও। তাই ভোগান্তি থাকলেও স্থানীয় বাসিন্দারা আগের থেকে বেশি আশ্বস্ত হচ্ছেন। তবে জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা আতঙ্কিত করেছে সকলকেই।
এই ইস্যুতে অবশ্য কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়েছিল এবং আদালত রাজ্য সরকার, কলকাতা পুরসভা এবং সিইএসসি-র থেকে রিপোর্ট তলব করেছে। নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে রিপোর্ট দিতে হবে পুরসভাকে এবং দুর্ঘটনা এড়াতে কী পদক্ষেপ - সেই সংক্রান্ত তথ্য জানাতে হবে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাকে।আগামী ৭ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
জমা জলে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যে রাজ্য সরকার এবং সিইএসসি বিরোধ বেঁধে গেছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, মৃত্যুর দায় সিইএসসি-র। কারণ তাঁরা উন্নয়নের কাজ করেনি। শুধু তাই নয়, সংস্থাকে মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলেও দাবি তাঁর। অন্তত ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের পাল্টা বিবৃতি দিয়েছে সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সংস্থাও।
সিইএসসি-র স্পষ্ট কথা, রাস্তার আলোর খুঁটি (Light Post) এবং ট্র্যাফিক লাইটগুলি (Traffic Light) তাদের মালিকানাধীন, রক্ষণাবেক্ষণ বা পরিচালনার বিষয় নয়। এগুলি নিয়ে তাঁরা কাজ করে না।