নির্যাতিতা এর আগে পুলিশের কাছে অভিযোগপত্রে জানিয়েছিলেন, তাঁকে ধর্ষণের সময় ভিডিও করে রাখার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

মনোজিৎ মিশ্র
শেষ আপডেট: 1 July 2025 16:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবা আইন কলেজে ছাত্রীকে ‘গণধর্ষণ’-এর (Kasba Law College) অভিযোগ সামনে আসার পর থেকে তদন্তে একের পর এক নতুন তথ্য উঠে আসছে। এবার তদন্তকারীদের নজর অভিযুক্তদের ফোনকলের দিকেও। বিশেষ করে মনোজিৎ মিশ্র (Manojit Mishra) ঠিক কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন? গ্রেফতারের আগেই কি তিনি কাউকে কিছু জানিয়েছিলেন? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ধৃত তিনজনের কল ডিটেলস রিপোর্ট (CDR) খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রের খবর, ২৫ জুনের ঘটনার ঠিক পরের দিন অর্থাৎ ২৬ তারিখ মনোজিৎ ফোন করেছিলেন কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল (Vice Principal) নয়না চট্টোপাধ্যায়কে। কল রেকর্ড থেকে এমন ইঙ্গিতই মিলেছে। কিন্তু সেই কথোপকথনের বিষয়বস্তু কী ছিল? মনোজিৎ কি সত্যিই অপরাধের কথা স্বীকার করেছিলেন? সেই বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়।
এই প্রশ্নের উত্তর পেতে কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল নয়না চট্টোপাধ্যায়কে দু’বার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল। গত সোমবারও দীর্ঘক্ষণ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত স্পষ্টত কোনও তথ্য পায়নি পুলিশ।
এদিকে নির্যাতিতা এর আগে পুলিশের কাছে অভিযোগপত্রে জানিয়েছিলেন, তাঁকে ধর্ষণের সময় ভিডিও করে রাখার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্ত তিন জনের মোবাইল বাজেয়াপ্ত করার পর দুজনের ফোন থেকে ঘটনার দিনের ভিডিও পেয়েছে। এরা হল মনোজিৎ মিশ্র এবং প্রমিত মুখোপাধ্যায়। এই প্রেক্ষিতে ধীরে ধীরে এটাই প্রমাণ হচ্ছে, নির্যাতিতা যে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ করছিলেন, তা সঠিক।
কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, ''যে ঘটনা ঘটেছে সেটি খুবই সেন্সিটিভ। তদন্ত চলছে। আমাদের কাছে ইতিমধ্যে একাধিক তথ্য এসেছে, প্রমাণ জোগাড় করেছি। যা যা অ্যাকশন নেওয়ার দরকার তা নেওয়া হচ্ছে। দোষ প্রমাণিত হলে কড়া শাস্তি দেওয়া হবে।'' পাশাপাশি তিনি আরও জানান, সমস্ত তথ্য যাচাই করে তদন্ত চলছে। এখনই সব সংবাদমাধ্যমে বলা যাবে না। তবে সিপি আশ্বাস দিয়েছেন, দোষীরা কড়া শাস্তি পাবে।