গা শিউরে ওঠা সেই মুহূর্তের কথা মনে করে সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজের (South Calcutta Law College) ছাত্রী বলেন, 'শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে আমার দিকে এগিয়ে আসে। দেখে বোঝাই যাচ্ছিল সে সম্পূর্ণ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আছে।'

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 2 July 2025 11:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবা ল কলেজে গণধর্ষণকাণ্ডে (Kasba Law College gangrape Case) মূল অভিযুক্ত এবং ওই কলেজেরই প্রাক্তনী মনোজিৎ মিশ্রর (Manojit Mishra) একের পর এক কীর্তি প্রকাশ্যে আসছে। কীভাবে দিনের পর দিন কলেজে রাজত্ব চালাতেন, ক্যাম্পাসের ভিতরেই ছাত্রীদের হেনস্থা করতেন, বেরিয়ে আসছে সেই চাঞ্চল্যকর অভিযোগগুলি। এবার ল কলেজের আরও এক ছাত্রী ধৃতের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ আনলেন। জানালেন সেই ভয়ংকর মুহূর্তে তাঁর সঙ্গে ঠিক কী কী হয়েছিল?
'একটা মেয়ের শরীরে যতটুকু মর্যাদা থাকে, তার কিছুই হয়তো ছিল না। অর্ধেক জামা ছেঁড়া ছিল, বেশিরভাগ টেনে খুলে নেওয়া হয়েছিল', এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া ফোন বার্তায় এই কথাই বলেন তরুণী। তাঁর অভিযোগ, ২০২৩ সালে একটি কলেজ পিকনিকে তাঁকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন মনোজিৎ। ওই ছাত্রী বলেন, 'মনোজিতের কথাতেই মদের ব্যবস্থা করা ছিল। একটি ঘরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে পিছন থেকে শুনতে পাই কেউ একজন ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। হালকা আলোয় বুঝতে পারি সে মনোজিৎ।'
গা শিউরে ওঠা সেই মুহূর্তের কথা মনে করে সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজের (South Calcutta Law College) ছাত্রী বলেন, 'শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে আমার দিকে এগিয়ে আসে। দেখে বোঝাই যাচ্ছিল সে সম্পূর্ণ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আছে। তখন তাঁকে বলি যে দাদা দরজা বন্ধ কোরো না, আমি বাইরে বেরোব। কিন্তু সে কথা অগ্রাহ্য করেই আমাকে ঠেলে ফেলে দেয়, গলার মধ্যে কামড়াতে শুরু করে, আমার শরীর নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করতে থাকে। এমনকি বুকের ভিতর হাত ঢুকিয়ে অন্তর্বাস ছিঁড়ে দেয়।'
মনোজিতের বিরুদ্ধে অভিযোগ, 'আমার বাবার নাম বলা হয়। আমার বোন কোন স্কুলে পড়ে টাও বলে। হুমকি দেওয়া হয় দু'মিনিট লাগবে না বাবা-মা'র ঠিকানা খুঁজতে। তারপর আমাকে বলা হয়, এগুলো যদি না চাস যেভাবে আমি ছুঁচ্ছি আমাকে ছুঁতে দে।'
আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে কলকাতায় এসেছিলেন ওই তরুণী। কিন্তু কলেজেরই এক সিনিয়রের হাতে এভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। কীভাবে নিজেকে বাঁচাবেন, বুঝে উঠতে পারছিলেন না। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই দরজায় কেউ এসে ডাক দেয়, মনোজিতের হাত থেকে রেহাই পেয়েছিলেন তিনি। তরুণী বলেন, 'আমার ৩০-৩৫ সেকেন্ডের মতো জ্ঞান ছিল না, যদি তাঁর বেশি সময় অজ্ঞান থাকতাম, তাহলে আজ নির্যাতনের স্বীকার আমিই হতাম।'
গত ২৫ জুন কসবা ল কলেজে (Kasba Law College) এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ মনোজিৎ-সহ তিনজনের বিরুদ্ধে। চারদিনের পুলিশি হেফাজত শেষে মঙ্গলবার ফের ধৃতদের আদালতে হাজির করানো হয়। পুলিশে তরফে দশ দিনের হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে। তিন অভিযুক্ত- মনোজিৎ মিশ্র, জইব আহমেদ, প্রমিত মুখোপাধ্যায়কে ৮ জুলাই পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিল আদালত। ধৃত সিকিউরিটি গার্ডকে ৪ জুলাই পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আলিপুর আদালতে।