মনোজিতের কলেজের কয়েকজন জুনিয়র এবং সহপাঠীরা জানিয়েছেন, মনোজিত অনেক দিন ধরেই মেয়েদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করত। মেয়েদের অশ্লীল ছবি ও ভিডিও বানাত এবং সেগুলি বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দিত।

কসবাকাণ্ডে অভিযুক্ত মনোজিত মিশ্র
শেষ আপডেট: 29 June 2025 17:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবা ল কলেজের (Kasba Law College) গণধর্ষণকাণ্ডে তোলপাড় গোটা রাজ্য। ধৃত তৃণমূলের ছাত্রনেতা এবং ওই কলেজেরই প্রাক্তন ছাত্র মনোজিত মিশ্র (Manojit Mishra)। তদন্ত শুরু হতেই তাঁকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। মনোজিৎ ওরফে 'ম্যাঙ্গো'র বিরুদ্ধে এর আগেও মেয়েদের সঙ্গে নানা খারাপ আচরণের অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ পেয়েছে প্রাক্তন আইনের ছাত্রের মানসিকভাবে বিকৃত রূপ!
মনোজিতের কলেজের কয়েকজন জুনিয়র এবং সহপাঠীরা জানিয়েছেন, মনোজিত অনেক দিন ধরেই মেয়েদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করত। মেয়েদের অশ্লীল ছবি ও ভিডিও বানাত এবং সেগুলি বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দিত। ক্যাম্পাসের ছাত্রীদের ডেকে ডেকে বলত, 'তুমি আমায় বিয়ে করবে?' ধর্ষণের শিকার ছাত্রীকেও এই একই কথা বলেই প্রথমে কাছে যাওয়ার চেষ্টা করে সে।
জানা যায়, ২০২১ সালে কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ইউনিট থেকে মনোজিতকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। কারণ সে সময় থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে খারাপ আচরণের একাধিক অভিযোগ উঠছিল।
কলেজের এক প্রাক্তন ছাত্রী জানিয়েছেন, মনোজিৎ লুকিয়ে মেয়েদের ছবি তুলে সেগুলিকেই বিকৃত করে বন্ধুদের শেয়ার করত। বহু মেয়েদের সঙ্গে কাটানো ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও করে রাখত এবং বন্ধুদের দেখাত। সেই ছবি দেখেই সে ও তার বন্ধুরা মেয়েদের শরীর নিয়ে কুরুচিকর কথা বলত। অনেকেই বলছেন, মনোজিতের মানসিক সমস্যা বা ‘সাইকোপ্যাথিক প্রবণতা’ ছিল। অর্থাৎ সে বুঝেও ভুল কাজ করত এবং এতে খারাপ লাগার বদলে মজা পেত।
কসবার আইন কলেজে (Kasba Law College Rape Case) ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার মনোজিৎ মিশ্র (Manojit Mishra)। সঙ্গে গ্রেফতার আরও দুই অভিযুক্ত- জৈব আহমেদ, প্রমিত মুখোপাধ্যায়কে। প্রথম দু’জন অভিযুক্তকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার করা হয় তালবাগান ক্রসিংয়ের কাছে সিদ্ধার্থশঙ্কর শিশু রায় উদ্যানের সামনে থেকে। প্রথম জন ধরা পড়েন সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে, দ্বিতীয় জন ৭টা ৩৫ মিনিটে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় তৃতীয় অভিযুক্তকে।
পুলিশকে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা দিয়ে তরুণী আরও জানিয়েছেন, তৃণমূল (TMC) ছাত্র পরিষদের এক মিটিং শেষে তাঁকে ঘিরে ধরে ‘জে’, ‘এম’ ও ‘পি’ (J, M & P) নামের তিন যুবক। তাঁর অভিযোগ, এদের মধ্যে ‘এম’ ও ‘পি’ তাঁকে একটি ঘরে বন্ধ করে রেখে চলে যান এবং ‘জে’ তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ছাত্রীর মেডিক্যাল পরীক্ষাতেও উঠে এসেছে ভয়াবহ ঘটনার প্রমাণ। ছাত্রীর শরীরে পাওয়া গেছে জোর করে যৌনসম্পর্কের চিহ্ন, কামড়ের দাগ এবং নখের আঁচড়। এই ঘটনার তদন্তের পাঁচ সদস্যের সিট গঠন করা হয়েছে।