রবিবার তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি একটি শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছেন কামারহাটির বিধায়ককে। চিঠিতে তিন দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে—কেন তিনি এমন মন্তব্য করলেন, তার কারণ দর্শাতে হবে।

মদন মিত্র
শেষ আপডেট: 29 June 2025 14:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবার ল কলেজে (Kasba Law College) ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ক্রমশ বাড়ছে চাপা অস্বস্তি। বিশেষ করে দলের দুই প্রবীণ নেতা—সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) ও বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra) যখন এ বিষয়ে যে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শাসকদল দূরত্ব নিয়েছে। দলের তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, ওই বক্তব্য তাঁদের ‘ব্যক্তিগত মতামত’, তৃণমূলের নয়। এমন পরিস্থিতিতে দলের ভাবমূর্তিতে আঘাত লেগেছে বলে মনে করছে শাসকদল। যে কারণে দেরি না করে মদন মিত্রকে শোকজ করল তারা।
রবিবার তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি একটি শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছেন কামারহাটির বিধায়ককে। চিঠিতে তিন দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে—কেন তিনি এমন মন্তব্য করলেন, তার কারণ দর্শাতে হবে।

এখানে বোঝা দরকার মদন মিত্র ঠিক কী বলেছিলেন। শনিবার সংবাদমাধ্যমের তরফে তাঁকে কসবার ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রশ্ন তোলেন নির্যাতিতার বিরুদ্ধেই। জানান, ওই ছাত্রী যদি সেখানে না যেতেন তাহলে এমন ঘটনা ঘটত না। গেলেও তাঁর সঙ্গী সাথীদের নিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। যেটা তিনি করেননি। আর সেই পরিস্থিতিরই সুযোগ নিয়েছে অভিযুক্তরা।
এর পরপরই দলের তরফে স্পষ্ট করা হয়, মদনের বক্তব্য দলের মতামত নয়, এটি তাঁর একান্ত ‘ব্যক্তিগত’ মত। এর আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলেরই একাংশ মুখ খুলে মদন মিত্র ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছিলেন। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র তাঁদের ‘নারীবিদ্বেষী’ মন্তব্য বলেও কটাক্ষ করেন।
এই শোকজ পর্বে স্পষ্ট, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে শাসকদলের অন্দরেই ক্রমে বাড়ছে অস্বস্তি ও চাপ। এখন দেখার, মদন মিত্র দলের কাছে কী ব্যাখ্যা দেন এবং মদনের মতো কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও চিঠি ধরানো হয় কিনা।