একটা সময় ছিল যখন সংসদের অলিন্দে বসে চা খেতে খেতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee Dharna) উদ্দেশে যা নয় তাই বলতেন কবীর সুমন (Kabir Suman)।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কবীর সুমন
শেষ আপডেট: 6 March 2026 17:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা সময় ছিল যখন সংসদের অলিন্দে বসে চা খেতে খেতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee Dharna) উদ্দেশে যা নয় তাই বলতেন কবীর সুমন (Kabir Suman)। দিল্লির বাঙালি সাংবাদিককুলের অনেকেই তার সাক্ষী। তখন সুমন যাদবপুর থেকে সাংসদ। পরে ষোল সালের ভোটের পর রাতারাতি ভোলবদল দেখা যায় তাঁর। একুশ জুলাইয়ের মঞ্চে উঠে ভারী ও কাঁপা গলায় বলে উঠেছিলেন, এমন একটা দিন আসবে যেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুজো করবে মানুষ। মন্দির বানাবে।
সেই মঞ্চ আর শুক্রবারের ধর্মতলার মঞ্চের মধ্যে ১০ বছর পার। দেখা গেল, আর ভোলবদল করেননি কবীর সুমন। বরং এদিনও জোরালো কণ্ঠ ছেড়ে সুমন বার বার বোঝাতে চেয়েছেন, মমতাকেই চাই মমতাকেই।
ইদানীং বিজেপিকে আকছার সমাজমাধ্যমে মস্করা করেন সুমন। শুক্রবারও অন্যথা হয়নি। তিনি বলেন, “বিজেপি হারছেই।” এও বলেন, “বিজেপির একটু গাল টিপে দেবেন, বেচারা!” তার পর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন বিধান চন্দ্র রায়ের মতো কীভাবে বাংলাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার বাস্তবায়ন করেছেন।
২০০৯ সালে লোকসভা ভোটে জিতে সাংসদ হয়েছিলেন সুমন। কিন্তু তার পর এগারো সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে একের পর এক ইস্যুতে তাঁর দলের বিরুদ্ধে এবং তৃণমূল সরকারের প্রকাশ্যে সমালোচনা করতে শুরু করেন। কিষেণজিকে হত্যা, শিলাদিত্যকে গ্রেফতার করা, হুকিং বন্ধ করতে গিয়ে মগরাহাটে পুলিশের গুলি, বাংলায় একাধিক ধর্ষণের ঘটনা এবং সিন্ডিকেট রাজের মতো বিষয় নিয়ে তাঁর প্যারোডি, ব্যাঙ্গ, মস্করায় তৃণমূলকে বারবার অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল। পরে ষোল সালের ভোটের পর সব শোধবোধ হয়ে যায়।
‘আমি মনেপ্রাণে তৃণমূল নই, তবে...’
এদিনও অবশ্য সুমন বলেন, “আমি মনেপ্রাণে তৃণমূল (TMC) মোটেও নই। আমার একাধিক অভিযোগ আছে।” কিন্তু তারপরেই মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সাফল্যের দরাজ সার্টিফিকেট দিয়েছেন সুমন। তাঁর মতে, বিধানচন্দ্র রায়ের (Bidhan Chandra Roy) পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই এত দীর্ঘ সময় সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে কলকাতার ভোলবদলের কথা টেনে তিনি বলেন, “একবার কলকাতার রাস্তাঘাট দেখুন। আগে কী ছিল?”
ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে সুর
ভোটের মুখে ‘বিচারাধীন’ ভোটার তালিকা নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে যে লড়াই তৃণমূল শুরু করেছে, তাতে সংহতি জানান সুমন। তাঁর সাফ কথা, ভোটদান নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং সেই অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারে না।
গান ও সংহতি
এদিন বক্তৃতার শেষে গান ধরেন শিল্পী—‘আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে’। পরে মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধে তাঁর গলায় শোনা যায় ‘পথে আবার নামো সাথী’।
৭৫ বছর বয়সেও সঙ্গীতের জগতে সমান সক্রিয় কবীর সুমন। আজও তিনি সুরের নদীতে বহমান এক অবিরাম স্রোত। বর্তমানে বাংলা খেয়াল ঘরানা নিয়ে কাজ করছেন এই প্রবীণ সঙ্গীতশিল্পী।