সিইও (CEO) অফিসের ‘এসআইআর’ (SIR) জট ও ভোটার তালিকা (Voter List) থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন কবি জয় গোস্বামী (Joy Goswami)।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জয় গোস্বামী
শেষ আপডেট: 6 March 2026 17:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্মতলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee Dharna) ধর্নামঞ্চে শুক্রবার কেবল রাজনীতির লড়াই নয়, ধরা পড়ল দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত আবেগ ও কৃতজ্ঞতার কোলাজ। সিইও (CEO) অফিসের ‘এসআইআর’ (SIR) জট ও ভোটার তালিকা (Voter List) থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন কবি জয় গোস্বামী (Joy Goswami)। কবির অভিযোগ, তাঁর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে ভোটার তালিকায় নাম রাখা নিয়ে তাঁকেও ‘হেনস্থা’ করা হয়েছে।
অসুস্থ শরীরেও আইনি লড়াই
জয় গোস্বামী জানান, তাঁর যখন তিনটি অস্ত্রোপচার হয়েছিল, সেই সংকটজনক সময়ে তাঁর বাড়িতে ফোন করে ভোটাধিকারের প্রমাণ চাওয়া হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা সেই উদ্বেগের কথা কবিকে না জানিয়েই নথিপত্র সামলেছিলেন। কবি বলেন, “এসআইআর-এর কারণে সাধারণ মানুষ মারা যাচ্ছেন। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে একমাত্র মমতাই সর্বোচ্চ লড়াই করতে পারেন।” উল্লেখ্য, এই ইস্যু নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যে আবেদন জানানো হয়েছে, জয় গোস্বামী নিজেও সেই মামলার একজন আবেদনকারী। তাঁর কথায়, “এই শারীরিক অবস্থায় আমি যে সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়ের দ্বারস্থ হতে পেরেছি, তার নেপথ্যে রয়েছেন মমতাই।”
নস্ট্যালজিয়ায় নন্দীগ্রাম ও মহাশ্বেতা দেবী
এ দিন বক্তৃতায় পুরনো দিনের স্মৃতি রোমন্থন করেন কবি। তাঁর স্মৃতিতে ফিরে আসে ২০০৭-এর ১৪ মার্চের সেই রক্তক্ষয়ী নন্দীগ্রাম। কবি জানান, সেই রাতে তৎকালীন সরকারের পুলিশের বাধা অগ্রাহ্য করে কীভাবে মনমোহন সিং বা প্রণব মুখোপাধ্যায়কে ফোন করে রাস্তা পরিষ্কার করিয়ে ভোররাতে হাসপাতালে পৌঁছেছিলেন মমতা। সে দিন কবির পাশে থাকা কবীর সুমনও ছিলেন মমতার সফরসঙ্গী।
আর একটি ঘটনার স্মৃতিচারণ করে কবি জানান, এক রাতে মহাশ্বেতা দেবীর বাড়িতে বসে মুড়ি-চানাচুর খেতে খেতে অতি শান্ত গলায় মমতা তাঁকে বলেছিলেন, “কাজ করা ছাড়া আর আমাদের কী করার আছে জয়দা?” আবেগে রুদ্ধকণ্ঠ কবি এ দিন ঘোষণা করেন, “মৃত্যু পর্যন্ত মমতা যেখানেই থাকবেন, আমি তাঁর পাশেই থাকব।”
‘এটা হিউমিলিয়েশন’, তোপ মুখ্যমন্ত্রীর
জয় গোস্বামীর বক্তব্যের রেশ ধরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই এসআইআর-এর ঘটনায় উনিও একজন ভিক্টিম।” কবির মতো মানুষকেও শুনানিতে ডেকে পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। মমতা বলেন, “এ সব ইনসাল্ট আর হিউমিলিয়েশন (অপমান ও হেনস্থা) ছাড়া আর কিছুই নয়।”