নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করে উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য (Chiranjeev Bhattacharya) জানিয়েছেন, তাঁর প্রথম লক্ষ্য হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং পঠনপাঠনের মান উন্নয়ন করা।

যাদবপুরের নতুন উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য
শেষ আপডেট: 3 November 2025 14:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় আড়াই বছর পর অবশেষে স্থায়ী উপাচার্য (Vice Chancellor) পেল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University)। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য (Chiranjib Bhattacharya)। ২০২৩ সালের মে মাসে অবসর নিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ স্থায়ী উপাচার্য সুরঞ্জন দাস (Suranjan Das)। তারপর থেকেই টালমাটাল অবস্থার মধ্য দিয়ে চলছিল এই খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তা ইস্যু এবং শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা— সব মিলিয়ে বিগত কয়েক মাস ধরে নানা বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল যাদবপুর।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করে উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য (Chiranjeev Bhattacharya) জানিয়েছেন, তাঁর প্রথম লক্ষ্য হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং পঠনপাঠনের মান উন্নয়ন করা। তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বাড়াতে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া (Teacher Recruitment) দ্রুত শুরু করা দরকার। সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে ডিসেম্বরে সমাবর্তন আয়োজনেরও চেষ্টা করছি।”
এছাড়াও, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা (JU Security) বাড়ানো নিয়েও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত ৭০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর জন্য তহবিল মঞ্জুর করেছে। চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানান, শুধু ক্যামেরা নয়, নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নতুন উপাচার্যের কথায়, “যাদবপুর শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, এটি বাংলার গর্ব। এখানে শিক্ষার পরিবেশ যেন আরও নিরাপদ ও গুণগতমানসম্পন্ন হয়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”
তাঁর এই বক্তব্যে নতুন করে আশাবাদী শিক্ষকমণ্ডলী ও ছাত্রছাত্রীদের একাংশ। বহুদিন পর স্থায়ী উপাচার্য পেয়ে তাঁরা আশা করছেন, যাদবপুর আবারও তার আগের সুনাম ও স্থিতিশীলতা ফিরে পাবে।
গত মাসেই যাদবপুর-সহ রাজ্যের ছ’টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দীর্ঘ টালবাহানার পর রাজ্যের প্রস্তাবিত ছ’টি নামের সিলমোহর দিয়েছিলেনন আচার্য, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (CV Anand Bose)।
এই ছ’জনের সঙ্গে রাজভবনে বৈঠকও করেন রাজ্যপাল। তার পরই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Calcutta University) স্থায়ী উপাচার্য হিসাবে নাম ঘোষণা করা হয় আশুতোষ ঘোষের (Asutosh Ghosh)। পাশাপাশি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য, কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উদয় বন্দ্যোপাধ্যায়, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আশিস ভট্টাচার্য, সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চন্দ্রদীপা ঘোষ, বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Biswa Bangla University) জন্য আবু তালেব খানের নামও ঘোষণা করেন তিনি।