রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে (West Bengal University) উপাচার্য (Vice Chancellor) নিয়োগের জটিলতা কিছুটা দূর হল।

রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য নিয়োগের জটিলতা কিছুটা দূর হল।
শেষ আপডেট: 6 October 2025 15:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে (West Bengal University) উপাচার্য (Vice Chancellor) নিয়োগের জটিলতা কিছুটা দূর হল। সোমবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (Calcutta University), যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University), উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও গৌরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয়-সহ মোট আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে নিয়োগের পথ সুগম করার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।
বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চে এদিন মামলার শুনানি হয়। আদালতের নির্দেশেই প্রাক্তন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ইউইউ ললিতের নেতৃত্বে গঠিত সিলেকশন কমিটি উপাচার্য পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নামের তালিকা জমা দেয় সর্বোচ্চ আদালতে।
সেই তালিকার কয়েকটি নাম নিয়ে রাজ্যের আচার্য (রাজ্যপাল) এবং মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের তরফে আপত্তি জানানো হলেও, যেসব নাম নিয়ে কোনও আপত্তি নেই, সেগুলির ভিত্তিতেই আপাতত নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিল আদালত। ফলে উল্লিখিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য নিয়োগের জট অনেকটাই কাটল।
বিচারপতিরা আরও জানান, মামলার পরবর্তী শুনানি ইন-চেম্বার অনুষ্ঠিত হবে। আদালতের এই নির্দেশের ফলে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অচলাবস্থা থেকে আংশিক মুক্তি মিলবে বলে মনে করছে শিক্ষা মহল।
এর আগে, রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্য সরকার ও রাজভবনের টানাপোড়েনের মধ্যেই মোট ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টিতে উপাচার্য নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। বাকি ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে জট রয়ে গিয়েছিল।
সূত্রের খবর, এর মধ্যে সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজ্যের পাঠানো নামের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্যক্তিকে উপাচার্য হিসেবে অনুমোদন দিয়েছিলেন রাজ্যপাল। আবার আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে রাজ্যপাল বেছে নেন তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকা প্রার্থীদের। সাধারণত রাজ্যের পাঠানো প্রস্তাবিত তালিকার প্রথম নামেই রাজভবনের অনুমোদন মেলে, কিন্তু এবার সেই প্রথা ভাঙা হয়েছে।
তারপরে আরও দু'টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা মিটে গিয়েছিল। শিক্ষা মহলের মতে, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ এবং পর্যায়ক্রমে জটমুক্তির ফলে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় স্থিতি ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
গত অগস্টে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এবং কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে রাজ্যের পছন্দ করা দুই ব্যক্তিকেই নিয়োগ করার জন্য রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে পরামর্শ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পর রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিযুক্ত হন সোনালী চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কোচবিহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসাবে যোগ দেন সঞ্চারী মুখোপাধ্যায়।