উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্য সরকার ও রাজ্যপালের টানাপোড়েন নতুন নয়। বিগত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘অস্থায়ী’ উপাচার্য বসানো নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে বারবার বিরোধে জড়িয়েছেন রাজ্যপাল। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত পৌঁছয় সুপ্রিম কোর্টে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 22 September 2025 16:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মহলে ফের উত্তেজনা। উপাচার্য নিয়োগে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court order) স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও, কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ে (VC in Cooch Behar) এখনও নিয়োগ হল না উপাচার্যের।
সোমবার এই সংক্রান্ত মামলায় সর্বোচ্চ আদালত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেয় এবং বিচারপতি ইউইউ ললিতের নেতৃত্বে গঠিত সার্চ কমিটির তরফে রাজ্যের ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নামের তালিকা জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদের জন্য সর্বসম্মতভাবে নাম চূড়ান্ত হলেও, তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দু’টি করে পৃথক তালিকা জমা পড়ে (State-Governor conflict)।
সূত্রের খবর, তালিকাভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে অধিকাংশের ক্ষেত্রে দ্রুত নিয়োগের প্রস্তুতি শুরু হলেও, কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন এখনও নিয়োগ হয়নি, সেই প্রশ্ন উঠছে শিক্ষা মহলে। আঙুল উঠছে রাজ্যপাল তথা আচার্য সি ভি আনন্দ বোসের দিকেই।
প্রসঙ্গত, উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্য সরকার ও রাজ্যপালের টানাপোড়েন নতুন নয়। বিগত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘অস্থায়ী’ উপাচার্য বসানো নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে বারবার বিরোধে জড়িয়েছেন রাজ্যপাল। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত পৌঁছয় সুপ্রিম কোর্টে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, উপাচার্য পদে নিয়োগ হবে সার্চ কমিটির সুপারিশমাফিক। সেইমতো সুপ্রিম কোর্টে তালিকা জমা দেয় ইউইউ ললিতের নেতৃত্বাধীন সার্চ কমিটি।
তবে সেই নির্দেশের পরও যদি কোচবিহারে নিয়োগ ঝুলে থাকে, তাহলে কি তা আদালতের রায় অমান্য করার শামিল?— উঠছে প্রশ্ন। শিক্ষা মহলের একাংশের মতে, এই ধরনের বিলম্ব রাজ্যের উচ্চশিক্ষার পরিকাঠামোকে আরও দুর্বল করে তুলছে। পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যত নিয়েও তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা।
রাজভবন এখনও এ বিষয়ে কোনও সরকারি মন্তব্য না করলেও, নবান্ন সূত্রে খবর, প্রয়োজনে ফের আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে রাজ্য সরকার।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা মহল তাকিয়ে রয়েছে— আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এবং কোচবিহারে কবে অবশেষে পূর্ণ সময়ের উপাচার্য নিয়োগ হয়।