দোকানের কর্মচারীকে হাত-পা বেঁধে রেখে, অবলীলায় হেঁটে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। তাদের মোটরবাইক বা গাড়ির সাহায্য না নেওয়া এবং দিব্যি হেঁটে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুলিশের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 22 September 2025 15:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার সকাল সাড়ে ন’টা পেরোতেই তমলুকের (Tamluk) মিলননগর বাজারে ছন্দপতন। মহালয়ার পরের সকাল, ব্যস্ত বাজার চত্বরে, মানুষে-মানুষে ভরা রাস্তায় হঠাৎই থমকে গেল সময়—সোনার দোকানের কর্মচারীর মাথায় ঠেকল আগ্নেয়াস্ত্র! মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই উধাও হয়ে গেল প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার সোনা ও নগদ টাকা (50 lakhs looted at gunpoint)। আতঙ্কে স্তব্ধ গোটা এলাকা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, তমলুক থানার অন্তর্গত মিলননগর বাজারে পূর্ণ অধিকারীর সোনার দোকানটি সোমবার সকালে যথারীতি খোলা হয়। কর্মচারী দোকান খোলার কিছুক্ষণ পর, সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ হঠাৎ করেই দোকানে ঢুকে পড়ে তিনজন সশস্ত্র দুষ্কৃতী। এক জন দুষ্কৃতি বন্দুক ঠেকিয়ে ধরে কর্মচারীকে, বাকি দু’জন দোকানের ভিতরে থাকা সোনার গয়না এবং ক্যাশ বাক্স খালি করে নেয়।
তারপর দোকানের কর্মচারীকে হাত-পা বেঁধে রেখে, অবলীলায় হেঁটে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। তাদের মোটরবাইক বা গাড়ির সাহায্য না নেওয়া এবং দিব্যি হেঁটে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুলিশের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর।
খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় তমলুক থানার পুলিশ। স্থানীয় দোকানদার ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এলাকা ঘিরে ফেলে শুরু হয় খোঁজখবর। ইতিমধ্যেই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুষ্কৃতীদের খোঁজে চলছে তল্লাশি।
এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বাজার এলাকায়। আতঙ্কে দোকানপাট তড়িঘড়ি বন্ধ করে ফেলেন বহু ব্যবসায়ী। এক ব্যবসায়ীর কথায়, “এই বাজারে দিনের বেলাতেই যদি এভাবে ডাকাতি হয়, তা হলে আমরা ব্যবসা করব কী করে?”
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত দ্রুত এগোচ্ছে। তবে এই দুঃসাহসিক ডাকাতির পর প্রশ্ন উঠছে—দিন দুপুরে এত বড় লুট, নিরাপত্তা কোথায়?